দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে না পারায় দেশের ১৪৭টি ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।
গত বৃহস্পতিবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক মো. আল মাসুদ করিমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ জারি করা হয়।
বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের অধীনস্থ ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল এবং ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার শিক্ষাক্রমের যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে এবং কোনো নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারছে না, সেগুলোর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ করাসহ কেন তাদের পাঠদানের স্থায়ী অনুমোদন প্রত্যাহার করা হবে না, তার সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ আগামী ১৮ জুনের মধ্যে বোর্ডের কাছে সশরীরে বা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আওতাধীন এই ১৪৭টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় দেখা গেছে, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের ১২০টি, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল কোর্সের ১২টি এবং ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার কোর্সের ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই নোটিশের আওতায় পড়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওই চিঠিতে ২০২০ সালের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি সংক্রান্ত নীতিমালার উপবিধি ৫.৪-এর কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা আছে, অনুমোদনের সময় বেঁধে দেওয়া শর্ত যেমন—শিক্ষাগত ফলাফল, অবকাঠামোগত মান, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের নিয়ম, পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রয়োজনীয় আসবাব ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি, গ্রন্থাগারসহ অন্যান্য জরুরি শর্ত পূরণে কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হলে সরকারি নির্দেশনানুযায়ী বোর্ড যেকোনো মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদান প্রক্রিয়া বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।
বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্ধারিত তারিখ অর্থাৎ ১৮ জুনের মধ্যে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রচলিত আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।