কলাম — হামিদ বহরামি
ইরান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখতে প্রতিরোধের পথে সরাসরি সংঘাতে নামা ছাড়া অন্যদের ওপর চাপ দিয়ে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল অবলম্বন করেছে — একটি বাস্তববাদী কৌশল যা বারবার পরীক্ষা হয়ে এসেছে।
গত কয়েক বছরে ইরানের কৌশলগত অবস্থান কমজোর হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর কৌশল, অংশীদারিত্ব এবং উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে অস্পষ্টতা রেখে কাজ করলেও চ্যালেঞ্জগুলো টানা ধাক্কায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান এখন সরাসরি কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার বদলে দায় সহযোগীদের ওপর চাপিয়ে দিতে বেশি মনোনিবেশ করছে, যাতে নিজ দেশের শক্তি এবং সম্পদ সংরক্ষণ করা যায়।
এই কৌশলের বাস্তবতা বোঝাতে লেখক তিনটি বড় ঘটনা তুলে ধরেছেন: প্রথমত, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর নেতার মৃত্যু, দ্বিতীয়ত সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের অবস্থান পরিবর্তন ও তৃতীয়ত ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে চলা ১২ দিনের সংঘাত, যা ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
লেখকের মতে, এখন ইরানের লক্ষ্য সময় কিনে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিজেদের সক্ষমতা পুনর্গঠনে সুযোগ তৈরি করা। তারা সরাসরি দায়িত্ব না নিয়ে অন্যদের কাঁধে চাপ দেয়ার কৌশল গ্রহণ করছে — যাতে ক্রমে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তি-সম্পন্ন পক্ষগুলো সামনে থেকে চাপ মোকাবিলা করবে।
এই নতুন বাস্তবতায় ইরান শুধু সামরিক সংঘাত নয়, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং নিরাপত্তা-সম্পর্কিত ঝুঁকি অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার মাধ্যমে নিজ সুদূরপ্রসারী উপস্থিতি বজায় রাখতে চাইছে — যদিও এটি স্থায়ী সমাধান নয় এবং সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পা
রে।