বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রয়োগের সময় এসেছে। বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এবার সময় এসেছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও দেশ পুনর্গঠনের।”
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নারী-পুরুষ সকলকে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তারা সহজে ঋণ, সার ও ফসলের বীজ পাবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রতিও দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজের জন্য জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের মালিক জনগণ, তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চাই।”
জনসভায় তিনি ঠাকুরগাঁওসহ এলাকার উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রতি দেন। তারেক রহমান বলেন, “চিনিকলসহ শিল্প কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁও ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে। হিমাগার তৈরি করা হবে, যাতে কৃষক তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারে। বেকারদের জন্য আইটি সেক্টরে হাব তৈরি করা হবে। মেডিক্যাল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত দাবিও বাস্তবায়ন করা হবে। এই এলাকার বিমানবন্দরও দ্রুত চালু করা হবে।”
তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “তারা নিজেদের স্বার্থ দেখেছে, জনগণের স্বার্থ দেখেনি। সরকার গঠন করলে ঘরে বসে হেলথ কেয়ার সার্ভিস নিশ্চিত করা হবে।”
সমাবেশে হাজারো জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “দেশটি সবার। বিএনপির শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ। জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে, বিচার হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। সবাই মিলে দেশকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধিশালী করতে হবে।”
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে রক্ষা করতে গোটা দেশ তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। কঠিন সময়ে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন দিতে হবে। ধানের শীষের জয়ের মাধ্যমে দেশকে বাঁচানো সম্ভব।”