সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৯৫টি ইয়াবা বড়িসহ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক নেতা এবং তাঁর এক সহযোগীকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার জামালগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ফেরিঘাট এলাকায় বিশেষ তৎপরতা চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, মাদকসহ আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এমরান হোসেন রুবেল এবং ভীমখালী ইউনিয়নের গোলামীপুর এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হক। এদের মধ্যে এমরান হোসেন রুবেলের পৈতৃক নিবাস বেহেলী ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে হলেও তিনি বর্তমানে উপজেলা সদরের তেলিয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন। অন্যদিকে তাঁর সহযোগী আজিজুল হক ওই এলাকার প্রয়াত আব্দুল ওহাবের সন্তান।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বৃহস্পতিবার রাতে ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। সন্দেহভাজন ওই দুই ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করে তাঁদের দেহ তল্লাশি করা হলে ১৯৫ পিস নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বেআইনিভাবে এই মাদক বহনের কারণে তাঁদের ঘটনা স্থল থেকেই আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তৃণমূলের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা মাদকসহ ধরা পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন যে, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, গ্রেপ্তারের পর প্রশাসনের কাছে দলের পক্ষ থেকে কোনো তদবির করা হয়নি। পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যে জেলা ও কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের অবহিত করা হয়েছে এবং দলীয় নিয়ম ভাঙার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুতই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।