শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

টানা ৩ ম্যাচ জিতে ফাইনালে বাংলাদেশ, লড়বে ভারতের বিপক্ষে

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠা কার্যত সময়ের অপেক্ষা ছিল। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে ৮ গোলের কম ব্যবধানে হারলেও ফাইনাল নিশ্চিত থাকত তাদের। তবে কোনো হিসাব-নিকাশের সুযোগ না দিয়ে মাঠের খেলাতেই দাপট দেখিয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। নেপালকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে অপরাজিতভাবে ফাইনালের টিকিট কেটে নিয়েছে বাংলাদেশ।

টানা ৩ ম্যাচ জিতে ফাইনালে বাংলাদেশ, লড়বে ভারতের বিপক্ষে
ছবি: সংগৃহীত

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠা কার্যত সময়ের অপেক্ষা ছিল। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে ৮ গোলের কম ব্যবধানে হারলেও ফাইনাল নিশ্চিত থাকত তাদের। তবে কোনো হিসাব-নিকাশের সুযোগ না দিয়ে মাঠের খেলাতেই দাপট দেখিয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। নেপালকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে অপরাজিতভাবে ফাইনালের টিকিট কেটে নিয়েছে বাংলাদেশ।

চার দল নিয়ে আয়োজিত এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে প্রত্যেক দল একে অপরের বিপক্ষে একবার করে খেলেছে। টানা তিন ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করে আবারও ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।

ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত—এটা যেন পরিচিত গল্প। ২০২৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। নাটকীয় সেই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে স্কোর ছিল ১-১, পরে টাইব্রেকারেও ১১-১১ গোলে সমতা থাকায় দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল সাফ। দুই বছর পর এবারও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল।

আজ দিনের প্রথম ম্যাচে ভারত ৮-০ গোলে ভুটানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের ফাইনাল প্রায় নিশ্চিত থাকায় কোচ পিটার বাটলার একাদশে কয়েকটি পরিবর্তন আনেন। তবে দলটির আক্রমণাত্মক মানসিকতায় কোনো ঘাটতি ছিল না।

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। তৃতীয় মিনিটে মামনি চাকমার কর্নার থেকে নেপালের গোলরক্ষকের ভুল কাজে লাগিয়ে বক্সের ওপর থেকে প্লেসিং শটে গোল করেন প্রতিমা মুন্ডা। এতে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় বাংলাদেশ।

গোল খাওয়ার পর নেপাল ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে এবং কয়েকটি আক্রমণও চালায়। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে কোচ শান্তি মারডি ও আলপি আক্তারকে মাঠে নামান। আলপি নামার পরই বদলে যায় ম্যাচের ছন্দ। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে আলপির গোলেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি নেপাল। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আলপি আক্তার দারুণ দক্ষতায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান ৩-০ করেন। এরপর বাংলাদেশ আরও একটি গোল করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।

ম্যাচের শেষ দিকে নেপাল ১০ জনের দলে পরিণত হয়। শেষ মুহূর্তে বক্সের একটু সামনে আলপির নেওয়া ফ্রি কিক নেপালের গোলরক্ষক দুর্দান্তভাবে সেভ করায় হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত হন তিনি।

গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ করেছে মোট ১৮ গোল, আর হজম করেনি একটিও। ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে নামার আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাসও পাচ্ছে দলটি, কারণ রাউন্ড রবিন লিগেই ভারতকে ২-০ গোলে হারানোর অভিজ্ঞতা আছে অর্পিতা-আলপিদের।