দেশজুড়ে বয়ে চলা প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। তীব্র গরমে অনেকেই মাথা ঘোরা, শারীরিক দুর্বলতা এবং বমিভাবের মতো নানাবিধ সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে পানি ও লবণের শূন্যতা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি থেকে হিট এক্সহসশন বা শারীরিক অবসাদ দেখা দেয়, যা সঠিক সময়ে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রাণঘাতী হিটস্ট্রোকে রূপ নিতে পারে।
তীব্র রোদে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম নির্গত হওয়ার ফলে পানিশূন্যতা দেখা দেয় এবং প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এর প্রভাবে রক্তচাপ হঠাৎ কমে গিয়ে চোখে ঝাপসা দেখা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, দ্রুত হৃদস্পন্দন কিংবা অতিরিক্ত ঘাম হওয়া অথবা শরীর একেবারে শুকিয়ে যাওয়া হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
এমন উপসর্গ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়াযুক্ত বা শীতল কোনো স্থানে নিয়ে যেতে হবে। বসে বা শুয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি তাকে ধীরে ধীরে খাওয়ার স্যালাইন বা পর্যাপ্ত পানি পান করানো জরুরি। শরীরের তাপমাত্রা কমাতে ঘাড়, মাথা ও হাত ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দেওয়া এবং শরীরে বাতাস চলাচলের সুবিধার্থে পোশাক ঢিলা করে দেওয়া প্রয়োজন। অসুস্থ বোধ করলে কোনোভাবেই একা না থেকে দ্রুত অন্যের সহায়তা নিতে হবে। যদি রোগী অজ্ঞান হয়ে যান, ক্রমাগত বমি করতে থাকেন কিংবা অসংলগ্ন কথা বলেন, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
এই সংকটময় আবহাওয়া থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে দিনের বেলা খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরে বের হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার এবং হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা আরামদায়ক হতে পারে। এছাড়া শরীর সতেজ রাখতে নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি পান করা এবং কঠোর পরিশ্রমের কাজ থেকে বিরত থাকা এ সময়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সুস্থ থাকতে সচেতনতাই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।