একই দিনে কুয়েত, মালয়েশিয়া ও লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছে ৩৪ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ। শনিবার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক পৃথক ফ্লাইটে এসব রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ এসে পৌঁছায়। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহগুলো দীর্ঘদিন সেখানে আটকে ছিল বলে জানানো হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে বড় একটি অংশ কুয়েত প্রবাসী। গতকাল সন্ধ্যায় কুয়েত এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে একযোগে ৩০ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়। এছাড়া লিবিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আসা অন্যান্য ফ্লাইটে আরও চারটি মরদেহ পৌঁছায়, যার মধ্যে প্রতিটি দেশ থেকে দুইজন করে প্রবাসী রয়েছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয়জনের নিথর দেহ হাতে পেয়ে বিমানবন্দরে স্বজনদের মাঝে এক শোকার্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দাফন ও আনুষঙ্গিক খরচ পরিচালনার জন্য প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এছাড়া নিহত প্রবাসীরা যদি বিমা বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধার আওতায় থাকেন, তবে সেই পাওনা দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। মরদেহ হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়ায় বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা প্রদান করেন।