পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরের দিকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি যখন বিপৎসীমার পঁচিশ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, ঠিক তখন দিনভর ঢলের তোড়ে সন্ধ্যা নাগাদ তা মাত্র বারো সেন্টিমিটার নিচে চলে আসে। পরের দিন অর্থাৎ বুধবার সকালের দিকে পানির গতি কিছুটা ধীর হয়ে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে নামলেও, সন্ধ্যার দিকে পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে তা মাত্র পনেরো সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা যায়।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পরবর্তী তিন দিন তিস্তা ছাড়াও ধরলা এবং দুধকুমার নদীর পানি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বাড়তে পারে। এমনকি আগামী চব্বিশ থেকে আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নদী সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো পুনরায় প্লাবিত হতে পারে।
এর বাইরেও আগামী বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কুড়িগ্রাম এবং লালমনিরহাট অঞ্চলের সতর্কতাসীমা স্পর্শ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ওই এলাকার গ্রামীণ জনপদগুলোকে ডুবিয়ে দিতে পারে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানান, তিস্তার পানি এখন বিপৎসীমার অত্যন্ত কাছে অবস্থান করছে। যদি উজানের দিকে বৃষ্টিপাত এভাবে চলতে থাকে, তবে সাময়িকভাবে একটি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে যেকোনো ধরণের বাঁধের ক্ষতি বা নদীভাঙন ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যাপ্ত বালুর বস্তা ও জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।