কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধান দুই মিত্র দেশ জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে গভীর উদ্বেগের মাঝে ট্রাম্প একটি ‘সম্মিলিত সুরক্ষা জোট’ গঠনের চেষ্টা চালালেও টোকিও ও ক্যানবেরার এই অনমনীয় অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের ক্রমাগত হুমকির মুখে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় ট্রাম্প চীন, যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোকে এগিয়ে আসার দাবি জানান। এমনকি ন্যাটো সদস্যরা এই পদক্ষেপে শামিল না হলে জোটের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তবে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি দেশটির পার্লামেন্টে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা পারস্য উপসাগরে কোনো যুদ্ধজাহাজ বা সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন না। টোকিওর এই অবস্থান ট্রাম্পের সেই যুক্তির পরিপন্থী, যেখানে তিনি বলেছিলেন—যেসব দেশ এই রুট ব্যবহার করে সুবিধা ভোগ করে, নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াও এই সামরিক প্রচেষ্টায় যুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রী ক্যাথরিন কিং এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, সমুদ্রপথটি উন্মুক্ত রাখা বৈশ্বিক স্বার্থে জরুরি হলেও এ বিষয়ে তারা কোনো জাহাজ পাঠাচ্ছেন না এবং তাদের কাছে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধও আসেনি।
এদিকে মিত্র দেশ যুক্তরাজ্যের অবস্থানও বেশ সতর্ক। সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর পরিবর্তে তারা বিকল্প পন্থায় এগোচ্ছে। ব্রিটিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধের জাহাজ না পাঠিয়ে তারা খনি অপসারণকারী ড্রোন মোতায়েনের মতো বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের একটি বিশাল অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি বন্ধ থাকা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। কিন্তু ট্রাম্পের ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টা’র ডাকে মিত্রদের এমন শীতল প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মিত্রদের এই অনাগ্রহের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা এবং ওয়াশিংটনের একক আধিপত্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।