শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তরে রাজি নয় ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় নিজেদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তরে রাজি নয় ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় নিজেদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান।

আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের সম্প্রতি যে প্রাথমিক সমঝোতা বা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পারমাণবিক বিতর্কটিকে বর্তমান আলোচনার পরিধির বাইরে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে যে আলোচনা হবে, সেখানেই কেবল এই জটিল ইস্যুটির সমাধান খোঁজা হবে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের সংগ্রহে থাকা উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশের সীমানার বাইরে পাঠানোর ব্যাপারে কোনো ধরনের সম্মতি বা চুক্তি এখনো হয়নি।

অন্য দিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পন্থার ব্যাপারে ইরান এই মুহূর্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, সার্বিক বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আলোচনার টেবিলে বসে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হন এবং দেশটির বেশ কিছু কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এই ঘটনার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদ এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ব্যাপক আক্রমণ চালায়।

কয়েক সপ্তাহের তীব্র ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর উভয় পক্ষ একটি সাময়িক ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কয়েক দফায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী ও স্থায়ী কোনো চুক্তি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তবে সংকট নিরসনে দু’পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা এখনো চলমান রয়েছে।