টানা তিন দিন ধরে একের পর এক আধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের এই ধারাবাহিক সামরিক প্রদর্শনকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিজেদের সামরিক শক্তি ও অস্ত্রভাণ্ডারকে আধুনিকায়নে জোর দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। টানা তিন দিনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে দেশটি একাধিক উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র প্রদর্শন করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষা মূলত প্রতিপক্ষ দেশগুলোর প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা। এর ফলে কোরীয় উপদ্বীপে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা আলোচনার প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত ক্লাস্টার ওয়ারহেড, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক অস্ত্র এবং কার্বন-ফাইবার বোমার কার্যকারিতা সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, উত্তর কোরিয়া থেকে নিক্ষিপ্ত একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ২৪০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন সক্ষমতার মাধ্যমে পিয়ংইয়ং এখন দক্ষিণ কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অবকাঠামোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে কার্বন-ফাইবার বোমা ব্যবহার করে বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দ্রুত অচল করে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরামের মহাসচিব শিন জং-উ মনে করেন, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক কৌশল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। তার মতে, আধুনিক যুদ্ধে শুধু সামরিক শক্তি নয়, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত অস্ত্রই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে।
তার ব্যাখ্যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অসমমিত সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে না পারায় সংঘাত শেষ পর্যন্ত সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতিতে গড়ায়। সেই বাস্তবতাই উত্তর কোরিয়াকে এমন অস্ত্র উন্নয়নে উৎসাহিত করছে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থেকে পাওয়া শিক্ষা উত্তর কোরিয়াকে আরও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা কৌশলের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তারা বলছেন, সামরিক সংখ্যার চেয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই এখন বড় বিষয় হয়ে উঠছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার এই ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষার ফলে পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন এশিয়ায় পিয়ংইয়ংয়ের এই পদক্ষেপ বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।
সূত্র: রয়টার্স