শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত

মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বর্ষণ এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত
ছবি : সংগৃহীত
মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বর্ষণ এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। পাহাড়ি ঢলের তীব্রতায় বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং কয়লা রাখার স্থানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবহাওয়ার খবর অনুযায়ী, গত এক দিনে চেরাপুঞ্জিতে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, সদর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার সীমান্ত পয়েন্টগুলো দিয়ে ব্যাপক হারে পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে শুরু করেছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শনিবার সকাল থেকে রবিবার বিকেল পর্যন্ত সুরমা নদীর জলস্তর ৮৪ সেন্টিমিটার ওপরে উঠেছে এবং পানি বৃদ্ধি পাওয়ার এই ধারা এখনো চলছে। সদর উপজেলার উত্তর সুরমা অঞ্চলের বড়বাজার-মঙ্গলকাটাসহ সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ঢলের পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

পাহাড়ি ঢলের তোড়ে চারাগাঁও এলাকার শতাধিক কয়লা ডিপো তলিয়ে গেছে। এতে বিপুল পরিমাণ কয়লা পানিতে ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য পাথরের স্তূপ বালির নিচে চাপা পড়েছে। বহু মানুষের বাসস্থান প্লাবিত হওয়ার সাথে সাথে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং তীব্র স্রোতের কারণে হাওরবাংলা বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে।

সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ঢলের পানির কারণে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের আনোয়ারপুর থেকে শক্তিয়ারকলা পর্যন্ত অংশটি প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে।

তাহিরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক এই বিষয়ে জানান, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলে বেশ কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরে রাখা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, আগামী আরও তিন দিন এই বৃষ্টিপাত চলার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমা পেরিয়ে যেতে পারে। তবে এই মুহূর্তে বড় ধরনের কোনো বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।