মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ভারতে মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় আকবর মণ্ডল নামের সাতচল্লিশ বছর বয়সী এক দরিদ্র মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।

ভারতে মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় আকবর মণ্ডল নামের সাতচল্লিশ বছর বয়সী এক দরিদ্র মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর নিরাপত্তা হীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিগত কিছু দিন ধরে ওই অঞ্চলে এক ধরণের উগ্র সাম্প্রদায়িক ও ভীতিদায়ক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এমনকি ধর্মীয় পরিচয় ও মুখে দাড়ি থাকার কারণে প্রায়শই মুসলিম হকারদের পথ আটকে জোরপূর্বক নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, গত ৯ জুন পুরুলিয়ার বান্দোয়ান এলাকার সুপুরডিহি গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আকবর মণ্ডল। নিহতের ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকারের দাবি, ওই অঞ্চলে বিরাজমান তীব্র মুসলিম-বিদ্বেষী ও ভীতিমূলক পরিস্থিতির কারণেই তাঁর বাবাকে জীবন দিতে হয়েছে। পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে অল্প বয়সেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পরিহার করে বাবার মতো তিনিও ওই এলাকায় ভ্যানে করে স্টিলের তৈজসপত্র বিক্রি করতেন।

ঘটনার দিন সকালে আকবর মণ্ডল যথারীতি ভ্যানে করে মালামাল বিক্রি করার সময় আকস্মিকভাবে তাকে টেনেহিঁচড়ে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এক অপরিচিত ব্যক্তি তাঁর ওপর চড়াও হয়। জুলফিকার জানান, হামলাকারী প্রথমে তাঁর বাবাকে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তিনি বাঁচার চেষ্টা করলে কুড়াল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। দুপুরে স্থানীয় থানা থেকে মুঠোফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তিনি বাবার রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ দেখতে পান। চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, হাসপাতালে নেওয়ার অনেক পূর্বেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা খেলাফত হোসেন মণ্ডলের অভিযোগ, বিগত প্রায় চৌদ্দ বছর ধরে পুনিশোল গ্রামের বাসিন্দারা কোনো প্রকার সামাজিক বা রাজনৈতিক ঝামেলা ছাড়াই এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নির্দিষ্ট একটি দলের উত্থানের পর থেকে এই এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং মুসলিমদের ওপর নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতিদিন চরম দুশ্চিন্তা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মক্ষেত্রে বের হতে হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষদের।

অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের পর পর তৎপরতা দেখিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি জানিয়েছেন, ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত বিশ্বনাথ মাহাতোকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডটি ওই ব্যক্তির নিজ বাসভবনের ভেতরেই সংঘটিত হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে এই নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটল, তা এখনো সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের ধারণা, আকস্মিক কোনো বাকবিতণ্ডা বা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ এই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।