সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্তের ওপারে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ কয়েকদিন ধরে পড়ে আছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, বন্ধুদের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার পর তাকে কোমর ও পায়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধারের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহত সাদ্দাম হোসেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের লামাগ্রামের কুটু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, গত বুধবার সাদ্দাম হোসেন আরও তিনজনের সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তার সঙ্গে যাওয়া তিনজনের একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেশে ফিরে আসেন বলে জানা গেছে। পরে ওই তিনজনের মধ্যে একজন আবু বক্কর শুক্রবার রাতে সাদ্দামের পরিবারকে বিষয়টি জানান।
নিহতের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন বলেন, বুধবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সাদ্দাম মোবাইল ফোন সঙ্গে নেয়নি। প্রথমে পরিবার ধারণা করেছিল তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে গেছেন। পরে তারা জানতে পারেন, তিনি অন্যদের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন।
নিজাম উদ্দিনের অভিযোগ, তার ভাইকে কোমর ও পায়ে গুলি করে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শনিবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তাদেরকে বিষয়টি বিজিবি ক্যাম্পে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, সীমান্তের ওপারে মরদেহ পড়ে থাকার বিষয়ে তারা তথ্য পেয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সীমান্ত সংশ্লিষ্ট হওয়ায় মরদেহ উদ্ধার হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সিলেট বিজিবি-৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো মরদেহ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য সচেতন করা হচ্ছে।