শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডুলি বললেন, ‘আপনাদের উন্মাদনা ছিল অবিশ্বাস্য’

ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সান মারিনোকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আর নিজের প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়ার পর শুধু দলের পারফরম্যান্স নয়, গ্যালারিতে থাকা হাজারো বাংলাদেশি সমর্থকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলি।

ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডুলি বললেন, ‘আপনাদের উন্মাদনা ছিল অবিশ্বাস্য’

ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সান মারিনোকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আর নিজের প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়ার পর শুধু দলের পারফরম্যান্স নয়, গ্যালারিতে থাকা হাজারো বাংলাদেশি সমর্থকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলি।

শুক্রবার রাতে ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে পরাজিত করে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করেন নবনিযুক্ত এই মার্কিন কোচ। তার মতে, দলের এই স্মরণীয় জয়ের পেছনে সমর্থকদের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ডুলি লিখেছেন, "সান মারিনোয় কী অবিশ্বাস্য একটি রাত কাটল!"

তিনি আরও লেখেন, "বাংলাদেশের ২-১ গোলের জয় এবং লড়াই, আত্মবিশ্বাস ও প্রাণশক্তিতে পূর্ণ একটি পারফরম্যান্স।"

তবে সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন গ্যালারিতে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি। ডুলির ভাষায়, "তবে আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের সঙ্গে থাকা হাজার হাজার বাংলাদেশি সমর্থককে। আপনাদের উন্মাদনা ছিল অবিশ্বাস্য।"

ইতালির বিভিন্ন শহর এবং ইউরোপের নানা দেশ থেকে আসা বাংলাদেশি সমর্থকেরা পুরো ম্যাচজুড়ে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করেন। প্রথমার্ধে তপু বর্মনের হেডে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া এবং ম্যাচের শেষ দিকে তার জয়সূচক গোলের পর গ্যালারিতে উৎসবমুখর আবহ সৃষ্টি হয়।

ডুলি মনে করেন, দর্শকদের এই অবিরাম সমর্থনই খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি লিখেছেন, "প্রথম মিনিট থেকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আপনাদের কণ্ঠ, আবেগ ও অবিরাম সমর্থন দলকে বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "কঠিন মুহূর্তগুলোতে আপনারা আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনারা আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়েছেন। আর তাই, এই জয় আমাদের সবার।"

ডুলির মতে, মাঠে থাকা ফুটবলাররা পুরো ৯০ মিনিট জুড়েই সমর্থকদের উপস্থিতি অনুভব করেছেন। "খেলোয়াড়রা পুরো ৯০ মিনিট আপনাদের এই সমর্থন টের পেয়েছে এবং এটাই আসল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।"

সান মারিনোর বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়। একই সঙ্গে ইউরোপের মাটিতে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেই এমন সাফল্য পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে, গত মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডুলির কোচিং অধ্যায়েরও শুরু হয়েছে জয় দিয়ে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের ফুটবল দর্শন সম্পর্কে ডুলি বলেছিলেন, "আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, বলের পেছনে ছুটতে নয়।"

সান মারিনোর বিপক্ষে সেই দর্শনেরই প্রতিফলন দেখা যায় মাঠে। বাংলাদেশ ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলেছে এবং রক্ষণাত্মক ফুটবলের বদলে আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছে পুরো ম্যাচজুড়ে।

নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে তপু বর্মনের জয়সূচক গোল বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়। সেই দৃশ্যই সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করেছে ডুলিকে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি লিখেছেন, "আপনাদের এই আবেগের জন্য ধন্যবাদ। আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য ধন্যবাদ। বাংলাদেশ ফুটবলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ।"

এবং আশাবাদী কণ্ঠে যোগ করেন, "একসাথে, আমরা এভাবে অসম্ভবকে জয় করে যাব।"