শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ভোট ঘিরে সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান

জাতীয় নির্বাচনের উত্তাপে যখন দেশ, তখন ভোটের আগে ও পরে নারী, সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা চেয়ে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সোমবার বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নাগরিক সমাজের ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ভোট ঘিরে সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান

জাতীয় নির্বাচনের উত্তাপে যখন দেশ, তখন ভোটের আগে ও পরে নারী, সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা চেয়ে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সোমবার বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নাগরিক সমাজের ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, নারী ভোটার এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হুমকি ও ভয়ভীতি ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার জেলা পর্যায় থেকে সহিংসতার আশঙ্কা ও আতঙ্কের খবর বেশি আসছে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও নারী ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

গণসাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিতে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হবে।”

নিজেরা করি-এর সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, “সরকারের কাজ গণভোটে ‘হ্যাঁ-না’ এর প্রচার করা নয়। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাজ সংখ্যালঘু, নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “ভোট ঘিরে যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে তাতে শুধু আদিবাসী, সংখ্যালঘু বা নারীই নন, প্রার্থীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।” তিনি আরও বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও সরকার—উভয়ের মধ্যেই উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, “আমরা বাংলাদেশে একটা উগ্র দক্ষিণপন্থার উত্থান দেখতে পাচ্ছি। তারা বাংলাদেশকে ‘মনোলিথিক রাষ্ট্র’ বানাতে চায়। বাংলাদেশকে বহুত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। এছাড়া বক্তব্য দেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, জাকির হোসেন, মনীন্দ্র কুমারনাথ, নির্মল রোজারিও, সুব্রত চৌধুরী, সাইদুর রহমান, দীপায়ন খীসা, কাজল দেবনাথসহ আরও অনেকে।

লিখিত বক্তব্যে শামসুল হুদা কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—নারী, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্ন ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেল’ আরও সক্রিয় করা; মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী বিধি পালনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ১২ ঘণ্টা পরপর পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মনিটরের নির্দেশনা দেওয়া; প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাউকে কোনো বিশেষ দলের পক্ষে প্রচারে যুক্ত থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া; এবং শুধু ভোটের দিন নয়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও যেন নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বা সম্পদের ক্ষতি না হয়—সে বিষয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান।