ফেনী শহরের ‘ওয়ান স্টপ মেটারনিটি ক্লিনিকে’ চিকিৎসকদের গাফিলতি ও ভুল চিকিৎসায় নাঈমা আক্তার লিজা নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন যৌথ অভিযান পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে। নিহত নাঈমা ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের প্রবাসী মুজিবুল হকের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রসব বেদনা নিয়ে লিজাকে প্রথমে অন্য একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলেও একজনের প্ররোচনায় তাকে ওই মেটারনিটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। কর্তৃপক্ষ দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলে শুক্রবার রাতে ২২ হাজার টাকার চুক্তিতে চিকিৎসক নাসরিন আক্তার মুক্তা সিজার সম্পন্ন করেন। একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেও অপারেশনের পর থেকেই রোগীর ব্যাপক রক্তক্ষরণ হতে থাকে। স্বজনরা বারবার আশঙ্কার কথা জানালেও ক্লিনিক সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে স্বাভাবিক বলে দাবি করেন। শনিবার রোগীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা কৌশলে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে অন্য একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে দ্রুত চট্টগ্রামে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়ার পথেই লিজার মৃত্যু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিমের উপস্থিতিতে অভিযান চালায় প্রশাসন। তবে মোবাইল কোর্ট আসার খবর পেয়ে ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসকসহ কর্মীরা পালিয়ে যান। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান জানান, ১৯৮২ সালের ক্লিনিক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করার কারণেই লিজার মৃত্যু হয়েছে এবং এটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় একটি নবজাতক তার মাকে হারাল। ফেনী মডেল থানার ওসি জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিভিল সার্জন উল্লেখ করেন যে, এই ক্লিনিকটি আগেও একবার বন্ধ করা হয়েছিল; এবার তদন্ত সাপেক্ষে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।