জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ স্মরণে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠুর এক অভিযোগের জবাবে পুলিশ সুপার এমন কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান। অনুষ্ঠানটির এই অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তের বেশ কয়েকটি ভিডিও চিত্র পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
উক্ত সভায় জুলাই আন্দোলনে ঢাকায় প্রাণ হারানো লাকসামের বাসিন্দা জিসানের বাবা নিজের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা তাকে প্রতিনিয়ত নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে।
শহীদ পরিবারের এই বক্তব্যের সূত্র ধরে ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বর্তমান জেলা পুলিশ প্রধান কুমিল্লায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুরোনো আমলের ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়ার পরও পুলিশ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনছে না বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে জিসানের বাবাকে হুমকিদাতাদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান এই ছাত্রনেতা।
এসব অভিযোগের বিপরীতে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, জিসানের মৃত্যুর ঘটনাটি ঢাকায় ঘটেছে এবং আইনি মামলাটিও সেখানে রুজু হয়েছে। তাই আবেগের বশে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলা উচিত। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এভাবে প্রশাসনের ওপর ঢালাও দোষারোপ করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।
পরবর্তীতে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে পুলিশ সুপার দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের একটি নির্দিষ্ট খণ্ডিত অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন পেশাদারত্বের মাধ্যমে জনগণের হারানো বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে কাজ করছে, ঠিক তখনই শহীদ দিবসের মতো একটি সংবেদনশীল অনুষ্ঠানে পুলিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালের শেষভাগে কুমিল্লার পুলিশ সুপার হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেছিলেন মো. আনিসুজ্জামান। নিজের ছাত্ররাজনীতির অতীত টানার বিষয়ে তিনি জানান, অতীতে তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং বিষয়টি স্রেফ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পর থেকে তিনি সর্বদা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পেশাদারত্বের সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, উক্ত ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে আর্থিক বাণিজ্যের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। জেলায় নতুন পুলিশ সুপার যোগ দেওয়ার পর এই ধরনের অনৈতিক মামলা-বাণিজ্যের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমন ভিত্তিহীন বক্তব্য দিচ্ছেন।
অবশ্য পুলিশের এই অভিযোগকে পুরোপুরি অসত্য ও মনগড়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম। তার দাবি, মামলা-বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ থাকলে প্রশাসন অনেক আগেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করত।
জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের প্রধান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই স্মরণসভায় কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।