শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

যিশুর শরীরে জড়ানো পবিত্র কাপড়ে ভারতীয় ডিএনএ!

খ্রিস্টধর্মের রহস্যময় নিদর্শন ‘শ্রাউড অব তুরিন’ বা তুরিনের পবিত্র কাপড় নিয়ে এবার এক চাঞ্চল্যকর বৈজ্ঞানিক তথ্য সামনে এনেছেন গবেষকরা। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘বায়ো-আর্কাইভ’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রাচীন এই লিনেন কাপড়ের তন্তুতে ভারতীয় উপমহাদেশের ডিএনএ-র অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসা ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

যিশুর শরীরে জড়ানো পবিত্র কাপড়ে ভারতীয় ডিএনএ!
ছবিঃ সংগৃহীত

খ্রিস্টধর্মের রহস্যময় নিদর্শন ‘শ্রাউড অব তুরিন’ বা তুরিনের পবিত্র কাপড় নিয়ে এবার এক চাঞ্চল্যকর বৈজ্ঞানিক তথ্য সামনে এনেছেন গবেষকরা। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘বায়ো-আর্কাইভ’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রাচীন এই লিনেন কাপড়ের তন্তুতে ভারতীয় উপমহাদেশের ডিএনএ-র অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসা ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

তুরিনের এই পবিত্র কাপড়টি মূলত ৪.৪ মিটার দীর্ঘ একটি প্রাচীন লিনেন বস্ত্র, যাতে এক ক্রুশবিদ্ধ ব্যক্তির অস্পষ্ট অবয়ব দৃশ্যমান। বহু খ্রিস্টান ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাস, ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর যিশু খ্রিস্টের পবিত্র দেহ এই কাপড় দিয়েই জড়িয়ে রাখা হয়েছিল। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপে প্রথম প্রকাশ্যে আসা এই বস্ত্রখণ্ডটি বর্তমানে ইতালির তুরিন শহরের ‘ক্যাথেড্রাল অব সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্ট’-এ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষিত আছে। এতে লেগে থাকা রক্তের দাগ এবং আঘাতের চিহ্নগুলো ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই গবেষণায় ‘নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিং’ নামক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাপড়ের ধূলিকণা ও তন্তু বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, এই কাপড়ে এমন কিছু মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্য বা ডিএনএ রয়েছে, যা সরাসরি দক্ষিণ এশিয়া বা ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের সঙ্গে মিলে যায়। এর পাশাপাশি লিনেন তন্তুতে এমন কিছু উদ্ভিদের ডিএনএ-র সন্ধান মিলেছে, যেগুলোর আদি উৎস ও উৎপাদনস্থল মূলত ভারত।

ইতালির ইউনিভার্সিটি অব পাডোভার গবেষকদের মতে, এই বস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত সুতা বা কাঁচামাল প্রাচীন ভারতের সিন্ধু উপত্যকা থেকে আমদানিকৃত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণার তথ্যমতে, প্রাচীনকালে ভারত উন্নতমানের বস্ত্র উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় বাণিজ্যিক পথ ধরে এই লিনেন মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপে পৌঁছানো অস্বাভাবিক নয়। এছাড়া কাপড়টিতে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের ডিএনএ-র সংমিশ্রণ পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যায় এটি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের মানুষের সংস্পর্শে ছিল।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ১৯৮৮ সালের এক কার্বন রেটিং পরীক্ষায় দাবি করা হয়েছিল যে, কাপড়টি ১২৬০ থেকে ১৩৯০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে তৈরি। তবে বর্তমানের এই ডিএনএ বিশ্লেষণ সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ভারত ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব আফ্রিকার ডিএনএ-র উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এই বস্ত্রখণ্ডের ইতিহাস অনেক বেশি প্রাচীন এবং এটি বিভিন্ন মহাদেশের মানুষের হাত বদল হয়ে বর্তমান অবস্থায় এসেছে। এই নতুন তথ্য ‘শ্রাউড অব তুরিন’ এর আদি উৎস এবং যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে চলমান বিশ্বব্যাপী গবেষণায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল।