শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

যশোরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ১০

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা ও স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

যশোরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা ও স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে সংঘটিত এই সহিংসতায় দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার জেরে বিকেলে ঝিকরগাছা পৌর শহরে ঝটিকা মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন জামায়াতের নারী কর্মীরা।

জামায়াত নেতাদের দাবি অনুযায়ী, দুপুরের দিকে গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে ১০ থেকে ১২ জন নারী কর্মীকে বিএনপির কয়েকজন কর্মী বাধা দেন এবং আপত্তিকর আচরণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে যুব জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ করা হয়, বিএনপি কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালিয়ে ১০ জনকে আহত করেন। আহতদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মুস্তাকিম হাসান এবং যুব জামায়াত কর্মী জহিরুল ইসলাম রয়েছেন।

তবে বিএনপি অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। যশোর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নী বলেন, জামায়াতের কর্মীরাই আগে হামলা চালায়। তার দাবি, তারা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের মতো বিশেষ ধরনের পোশাক পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ করে। বিএনপির পক্ষ থেকে কেবল আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জামায়াতের নারী কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দারুল উলুম কামিল মাদরাসা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পৌর বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে আসে।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলম জানান, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে এবং সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।