রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

যুদ্ধ বিরতির পরও স্বাভাবিক হয়নি হরমুজে জাহাজ চলাচল

ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের প্রাক্কালে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির শর্তে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে জাহাজ চলাচল এখনো প্রায় বন্ধ, যা আলোচনায় বিষয়টিকে কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুদ্ধ বিরতির পরও স্বাভাবিক হয়নি হরমুজে জাহাজ চলাচল

ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের প্রাক্কালে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির শর্তে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে জাহাজ চলাচল এখনো প্রায় বন্ধ, যা আলোচনায় বিষয়টিকে কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শুক্রবার সকালে আলজাজিরা জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজ ওই পথে চলাচল করেছে। একইসঙ্গে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে মাত্র ১০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য উদ্ধৃত করে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল আদায়ের দাবি তুলেছে ইরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে নেওয়া হতে পারে, যা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত এ ধরনের টোল আদায় বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে।

প্রণালিটি পুরোপুরি চালু আছে বলে শুরুতে দাবি করা হলেও পরে এক মার্কিন কর্মকর্তা স্বীকার করেন, নিরাপত্তা শঙ্কায় জাহাজগুলো ওই পথ এড়িয়ে চলছে। ইরানের হুমকি ও নিয়ন্ত্রণের কারণে চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির প্রধান সুলতান আল জাবের লিঙ্কডইনে লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। তাই পরিষ্কারভাবে বলা ভালো- হরমুজ প্রণালি খোলা নেই। চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শর্তারোপ করা হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’

ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ট্যাঙ্কারগুলো থেকে ফি আদায় করা একদমই উচিত নয়। যদি তারা করে থাকে, তবে এখনই তা বন্ধ করা উচিত।’ পরে আরেকটি পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, ‘ইরান খুবই নিম্নমানের কাজ করছে। আমাদের মধ্যে এমন কোনো চুক্তি হয়নি।’

এদিকে বৃহস্পতিবার এক বার্তায় মোজতবা খামেনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনাকে ‘নতুন পর্যায়ে’ নিয়ে যেতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন পর্যায়ের অংশ হিসেবেই টোল আরোপের বিষয়টি সামনে আসতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বৃহস্পতিবার দিনের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, শত শত তেলবাহী ট্যাঙ্কার এখনো প্রণালি পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, এই সংকটের কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় ২০ হাজার নাবিক কার্যত আটকে পড়েছেন।