যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ইরানের প্রকাশিত একটি খসড়া চুক্তি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রস্তাবটিকে ‘দুর্বল ও করুণ’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের প্রকাশিত খসড়া চুক্তিতে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করা হয়েছে, যা তার মতে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, 'ইরান যে শর্তগুলো প্রকাশ করেছে... লিখিতভাবে সম্মত হওয়া শর্তগুলোর সাথে সেগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'চুক্তি নিয়ে তাদের (ইরানের) দেওয়া দুর্বল ও হতাশাজনক বিবৃতিসহ যা কিছু তারা বলেছে, তার সাথে সত্যের কোনো মিল নেই। তারা অত্যন্ত অসম্মানজনক লোক। তাদের সাথে সততার ভিত্তিতে লেনদেন করার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই।'
গত রাতে প্রকাশিত খসড়া চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনার জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবও দিতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ওই নথি অনুযায়ী, তেহরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। একই সঙ্গে দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব
১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
২. ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার।
৩. ৩০ দিনের মধ্যে নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা।
৪. ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি।
৫. ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
৬. তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপজাত বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা এবং ইরানের নিজস্ব আর্থিক সম্পদে পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
৭. ইরান পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা প্রদান করতে হবে।
৮. পারমাণবিক ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও আইএইএ-সংশ্লিষ্ট সব বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য পক্ষগুলো ৬০ দিন ধরে আলোচনা করবে।
৯. পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে 'নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি'-তে ইরানের যে অঙ্গীকার রয়েছে, তার পুনর্ব্যক্তকরণ।
১০. আলোচনাকালীন ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সেনা বাড়াতে পারবে না এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না।
১১. ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন জব্দ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল অবমুক্ত করা। এর অর্ধেক পরিমাণ অর্থ আলোচনা শুরুর আগেই ইরানকে দিতে হবে।
১২. চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
১৩. চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে।
১৪. জব্দ করা তহবিলের অর্ধেক অর্থ অবমুক্ত, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না। আলোচনা শুধুমাত্র সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান, সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে। ইরানের মিসাইল কর্মসূচি এবং 'প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর' প্রতি তেহরানের সমর্থন সংক্রান্ত কোনো বিষয় আলোচনার এজেন্ডায় রাখা যাবে না।
চুক্তির এসব শর্ত প্রকাশের পর ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। একটি সূত্র এই প্রস্তাবকে 'আত্মসমর্পণমূলক চুক্তি' বলে বর্ণনা করেছে।
এদিকে এমন সময় এই খসড়া সামনে এসেছে, যখন ধারণা করা হচ্ছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে জেনেভা সফরে যেতে পারেন। আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সের আল্পস অঞ্চলে অনুষ্ঠেয় জি-৭ সম্মেলনের আগে, সম্ভবত রোববারই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধ শেষ করার জন্য খসড়া চুক্তিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছে ইরান
যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ইরানের প্রকাশিত একটি খসড়া চুক্তি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রস্তাবটিকে ‘দুর্বল ও করুণ’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।