রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ‘রক্তস্নান’র হুমকি কিউবার প্রেসিডেন্টের

ওয়াশিংটনের সঙ্গে চরম উত্তেজনার পারদ চড়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে নজিরবিহীন এক কড়া বার্তা দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কিউবার মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে, তবে তার পরিণতি হবে এক ভয়াবহ ‘রক্তস্নান’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ‘রক্তস্নান’র হুমকি কিউবার প্রেসিডেন্টের
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনের সঙ্গে চরম উত্তেজনার পারদ চড়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে নজিরবিহীন এক কড়া বার্তা দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কিউবার মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে, তবে তার পরিণতি হবে এক ভয়াবহ ‘রক্তস্নান’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল তাঁর পোস্টে বলেন, ‘কিউবা অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি নয় এবং তাদের কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্যও নেই।’

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করে আরও বলেন, ‘কিউবা কোনো হুমকি নয়।’

তবে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সামরিক উত্তেজনা উসকে দেওয়া হলে এর ফলাফল হবে অত্যন্ত মারাত্মক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, বৈশ্বিক আইন মেনেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কিউবার আত্মরক্ষার ‘পূর্ণ বৈধ অধিকার’ রয়েছে।

ড্রোনের সূত্র ধরে নতুন উত্তেজনা

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। গোপন গোয়েন্দা রিপোর্টের সূত্র দিয়ে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কিউবা ইতোমধ্যে ৩০০টিরও বেশি সামরিক ড্রোন নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট অঞ্চল, গুয়ান্তানামো বে নৌঘাঁটি এবং আমেরিকার সামরিক যুদ্ধজাহাজের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে এই ড্রোনগুলো ব্যবহার করা হতে পারে।

অবশ্য কিউবান প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হাভানার কর্মকর্তাদের মতে, কিউবার ওপর সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন চালানোর একটি যুতসই অজুহাত দাঁড় করাতেই ওয়াশিংটন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

সংকটের মুখে ওয়াশিংটন-হাভানা সম্পর্ক

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু কারণে দুই দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো:

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা।

কিউবা জুড়ে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট।

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ।

বিগত কয়েক মাস ধরে কিউবায় ভয়াবহ জ্বালানি ঘাটতি এবং অনবরত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে দেশের ভেতরে এমন চরম অর্থনৈতিক সংকট চললেও, অনেক সাধারণ কিউবান নাগরিক জানিয়েছেন যে বিদেশি কোনো আগ্রাসন বা হামলা হলে তারা ঘরে বসে থাকবেন না, বরং সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। অন্যদিকে, সংঘাত এড়াতে অনেক নাগরিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত না করে আলোচনার টেবিলে বসে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।


তথ্যসূত্র: সামা টিভি