যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত ও পালটাপালটি হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। ভূরাজনৈতিক এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
শুক্রবার বিশ্ববাজারের প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য এক শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে আগের দিনের দরপতন পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেছে বাজার। চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের দামই প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাধ্যমে ব্রেন্ট ক্রুড টানা তৃতীয় সপ্তাহ এবং ডব্লিউটিআই টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো মূল্যবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে।
জ্বালানি তেলের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারগুলোতেও। শুক্রবার সকালে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে সূচকের বড় পতন লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে জাপানের প্রধান শেয়ারসূচক নিক্কেই ২২৫ তিন শতাংশের বেশি কমে দিনের লেনদেন শুরু করে।
এই বাজার অস্থিরতার নেপথ্যে রয়েছে ইরান ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক সংঘাত। শুক্রবার ইরানের হরমোজগান অঞ্চলের বান্দার-ই খামির সেতুতে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হন। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন পক্ষ থেকে এই হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহতের দাবি স্বীকার করা না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসেও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে।