মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ঘনীভূত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে, একই সঙ্গে ইরানের সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও।
বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে চলমান যোগাযোগ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তাদের সামরিক ঘাঁটিতেও পাল্টা আঘাত হানা হবে। এই পরিস্থিতিতে কাতারের দোহায় অবস্থিত আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরে যেতে বলা হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিমান বাহিনীর কমান্ডার সরদার মুসাভি বলেছেন, “ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে। যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।” বার্তা সংস্থা ফার্সের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের আগের তুলনায় ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও বেড়েছে।”
এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “কেউ হামলা করলে তাদের জন্য অনেক চমক অপেক্ষা করছে।” প্রেস টিভির বরাতে জানা যায়, এক নিরাপত্তা বৈঠকে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে শেষ রক্তবিন্দু ও পূর্ণ শক্তি দিয়ে দেশ রক্ষা করা হবে।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, “হামলায় যেসব দেশ সহায়তা দেবে তারাও বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।”
ওই বৈঠকে নাসিরজাদেহ আরও উল্লেখ করেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।