জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ‘বিচারের ঊর্ধ্বে’ অবস্থান করছে। তিনি বলেন, "ওয়াশিংটন এখন মনে করছে, বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের জন্য বহুপাক্ষিক চেষ্টার চেয়ে তাদের নিজস্ব ক্ষমতা ও প্রভাবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"
বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন গুতেরেস। তিনি আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে প্রায় অপ্রাসঙ্গিক মনে করছে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে প্রায়ই কেবল নিজেদের প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।"
মহাসচিবের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ এবং দেশটির প্রেসিডেন্টকে প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের বিতর্কিত হুমকির বিষয়টিও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত।
গুতেরেস স্বীকার করেন, “সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে জাতিসংঘের সনদ মেনে চলতে বাধ্য করা যাচ্ছে না। সংঘাত নিরসনে আমাদের প্রচেষ্টা থাকলেও, আমাদের কাছে শক্তিধর দেশগুলোর মতো প্রভাব প্রয়োগ করার ক্ষমতা নেই।”
তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘অকার্যকর’ ও ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেন। গুতেরেস বলেন, "ইউক্রেন ও গাজা অঞ্চলের যুদ্ধ থামাতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বারবার বাধাগ্রস্ত করছে।"
মহাসচিব নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "জাতিসংঘের বৈধতা ও পুরো বিশ্বের কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত করতে এর গঠন পরিবর্তন জরুরি। বিশেষ করে কোনো দেশ যেন নিজের স্বার্থের জন্য বৈশ্বিক শান্তি বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, এজন্য ভেটো ক্ষমতা সীমিত করতে হবে।"
১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন গুতেরেস।
পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুতেরেস ২০১৭ সালে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ তার এই মেয়াদ শেষ হচ্ছে।