রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকতো না: ট্রাম্প

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকতো না: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, তিনি নিজে এবং মার্কিন প্রশাসন পাশে না থাকলে বর্তমান বিশ্বের মানচিত্রে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যেত না।

তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। গত রবিবার সেই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পর দীর্ঘদিনের এই দুই মিত্র রাষ্ট্রের মধ্যকার ফাটল এখন পুরোপুরি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সমসাময়িক ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনাকালে ট্রাম্প এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাঁকে ছাড়া ইসরায়েলের টিকে থাকা সম্ভব ছিল না, কারণ অন্য কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষে তাঁর মতো সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতো না।

নিজের নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি যদি এই আঞ্চলিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত না হতেন, তবে অনেক আগেই বড় ধরনের বোমা হামলায় ইসরায়েল ধ্বংস হয়ে যেত। অবশ্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করে ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর এখনো চমৎকার যোগাযোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সেখানে মাত্রাতিরিক্ত সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারাচ্ছেন।

লেবাননে সংঘটিত একটি সুনির্দিষ্ট কিন্তু নাম প্রকাশ না করা বিমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে সেই হামলার দৃশ্য এবং বোমার আঘাতের স্থানটি দেখেছেন, যা ছিল অত্যন্ত নির্মম। এর পাশাপাশি লেবানন সীমান্তে চলমান সামরিক তৎপরতার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও অনেক বেশি সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশটিতে যৌথভাবে চতুর্মুখী বিমান হামলা শুরু করেছিল মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। তবে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত রবিবার ওয়াশিংটন এককভাবে তেহরানের সঙ্গে একটি স্বাধীন শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করায় এখন ইসরায়েলের একক সামরিক অবস্থানের সঙ্গে আমেরিকার এক ধরনের প্রকাশ্য দূরত্ব তৈরি হয়েছে।