বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সাশ্রয়, শহরের যানজট নিরসন এবং আগামীর প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার কথা ভেবে সপ্তাহে তিন দিন পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সরকারের এই নতুন শিক্ষানীতিকে অবিবেচনাপ্রসূত ও বাস্তবজ্ঞানহীন বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব।
শনিবার ১১ এপ্রিল নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই সিদ্ধান্তের প্রতি কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ড. নকীব তার লেখায় দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রায় এক লাখের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৮০ হাজারেরও বেশি গ্রাম রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৭২ শতাংশ পরিবারে স্মার্টফোন থাকলেও গ্রামের বিশাল একটি অংশের কাছে এখনও এই প্রযুক্তি পৌঁছায়নি। অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ গ্রামীণ বাড়িতে স্মার্টফোন নেই—এমন রূঢ় বাস্তবতাকে এড়িয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অনলাইন শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষকদের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, ভার্চুয়াল মাধ্যমে পাঠদান করা মোটেই সহজ কাজ নয়; বরং এর জন্য অনেক কারিগরি সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। দেশের কত শতাংশ শিক্ষকের এ ধরনের ক্লাস নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা কারিগরি দক্ষতা রয়েছে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে এমন পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে হঠকারিতা হিসেবে অভিহিত করে অধ্যাপক নকীব তার পোস্টে আরও জানান, মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা যাচাই না করেই অত্যন্ত নিম্নমানের একটি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতির সাথে কোনো সামঞ্জস্য না রেখে নেওয়া এই পদক্ষেপ শিক্ষার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।







