হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী নৌযানগুলোর যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত নিরাপদ সীমানার সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান চূড়ান্ত করতে একমত হয়েছে ইরান ও ওমান। তেহরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার এই অগ্রগতির খবর নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, জলপথটির সঠিক অবস্থান ও রূপরেখা কীভাবে বৈশ্বিক সমুদ্র চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে, সে ব্যাপারেও দুই রাষ্ট্র অভিন্ন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এই ব্যবস্থার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও সমুদ্রপথে বাণিজ্য সচল রাখার কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই সমঝোতাটি মূলত সংকটকবলিত প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যে দুই দেশের ধারাবাহিক উদ্যোগের সর্বশেষ ধাপ। এর আগে আগস্ট মাসে একটি সাময়িক নৌপথ তৈরি, সম্ভাব্য মাইন নিষ্ক্রিয়করণ, নৌযান নিয়ন্ত্রণ এবং তথ্য বিনিময়ের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী করিডোর প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে রূপরেখা ঠিক করেছিল দুই পক্ষ। তবে এই সমঝোতার অর্থ এই নয় যে হরমুজ দিয়ে নির্বিঘ্ন চলাচলের ওপর আরোপিত সব ধরনের কড়াকড়ি উঠে গেছে বা বাণিজ্যিক বহরের জন্য কোনো শর্তহীন পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
তেহরান আগেই স্পষ্ট করেছে, এই রুটে পূর্ণাঙ্গ নৌ-চলাচল নির্ভর করছে বিস্তৃত রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। গত আগস্টের শেষ দিকে ওমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নৌপথের কারিগরি দিক, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য বিনিময়ের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। সে সময় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি উল্লেখ করেছিলেন, পরিকল্পিত সাময়িক রুটটি সাত মাইল চওড়া হবে, যার সংযোগস্থলের কিছু অংশ ইরানের ভৌগোলিক জলসীমায় পড়বে। পরবর্তী সময়ে দেশটির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক নেতৃত্বও এই পথ নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রণালিটি সম্পূর্ণ সচল হওয়ার বিষয়টি ইসলামাবাদ সমঝোতার আওতায় ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এদিকে প্রণালির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রশ্নে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর। বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তাদের বিবেচনায় অনুমোদনহীন বা বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত সব ট্রানজিট পথ অচিরেই রুদ্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি বিশেষ করে ওমান উপকূলের কাছাকাছি বিকল্প দক্ষিণমুখী জলপথটির দিকে ইঙ্গিত করেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, প্রণালির প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত পাথুরে অংশ ধ্বংস করে এই বিকল্প পথগুলো তৈরি করা হয়েছে, যা মূলত ছোট নৌযান ব্যবহার করে তেল পাচার ও ট্যাংকারে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছিল। উপসাগরীয় তেল সরবরাহ সংকট-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবির বিপরীতেই তেহরানের এই সামরিক কর্মকর্তার এমন প্রতিক্রিয়া এলো।
সূত্র: আল জাজিরা, গল্ফ নিউজ