সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ নওগাঁয় তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছেছে। শনিবার বিকেলে মরদেহগুলো বাড়িতে নেওয়ার পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। শেষবারের মতো প্রিয়জনদের দেখতে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের পাশে ভিড় করেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার সকালে পাঁচজনের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে সেগুলো নওগাঁর উদ্দেশে পাঠানো হয়। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে মরদেহগুলো তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছায়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ এলাকার মজনু রহমানের ছেলে শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের নাজমুল হুদার ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, একই উপজেলার মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামাণিকের ছেলে মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মজনু সরদারের ছেলে মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাগর আলী।
শনিবার বাদ আসর পার নওগাঁ এলাকার শাহিনের মরদেহ স্থানীয় শুরছুলা স্কুলে জানাজা শেষে বাইতুন নুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। একই সময়ে আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামে হাসিবুল হাসান শুভর জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
তবে আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের সজিব এবং সাধনগর গ্রামের সাগর আলীর মরদেহ রোববার সকাল ১০টায় দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিরুজ্জামান।
গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। গত ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়। শনিবার বাকি সাতজনের মরদেহ দেশে পৌঁছায়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন নওগাঁর এবং দুজন নাটোরের বাসিন্দা।
নাটোরের নিহত দুজন হলেন নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুর গ্রামের রব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন এবং দিঘীরপাড় গ্রামের জাকের আলীর ছেলে শামীম।
বৃহস্পতিবার রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সাতজনের মরদেহ শনাক্তের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।