বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট দেওয়ার প্রশ্নই আসে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁকে সাধারণ ভ্রমণকারী হিসেবে বিবেচনা করে পাসপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট দেওয়ার প্রশ্নই আসে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁকে সাধারণ ভ্রমণকারী হিসেবে বিবেচনা করে পাসপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা সফরে আসা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবীর বলেন, তিনি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক থেকে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন। এ কারণে বিষয়টি সম্পর্কে এখনো অবগত নন। তবে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার প্রসঙ্গটি তাঁর কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখানে কি শ্বশুরবাড়ি রংপুরে বেড়াইতে আসবে যে তাঁরে পাসপোর্ট দেব, আর পাসপোর্ট দিয়ে আসবে? শেখ হাসিনা হচ্ছেন পলাতক সন্ত্রাসী। স্বৈরাচার, একটা পালিয়ে যাওয়া টেররিস্ট; এখানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে, তাঁকে কি নরমাল কমার্শিয়াল ট্রাভেলার হিসেবে দেখব যে পাসপোর্ট দেব? আসেন, আসিয়া আপনার শ্বশুরবাড়ি রংপুর বেড়াইয়া যান। আমাদের অ্যাকটিভ এক্সট্রাডিশন ট্রিটি আছে টেররিস্টদের ধরার, ক্রিমিনালকে ধরার। সন্ত্রাসী আর অপরাধীকে ধরতে পাসপোর্ট লাগে না, এটা হস্তান্তর হয়।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও আইনি প্রক্রিয়া কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হস্তান্তরের সুযোগ আছে। তাই তাঁকে পাসপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলার বিচার চলছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। নিহতের সংখ্যা নিয়েও তাঁর আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন।

ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বাংলাদেশ বারবার দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কয়েক দফা চিঠি পাঠালেও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ভারত এ ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে।

গত জুলাইয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।