শনিবার, 31 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

১০ বিষয়ে ফেল করেও পাস, পরীক্ষার্থীসহ বোর্ডের ৩ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় দুটি বিষয়ে উত্তরপত্রে শূন্য পেলেও প্রকাশিত ফলাফলে একটিতে ৪৬ এবং অন্যটিতে ৪৫ নম্বর পেয়েছে এক শিক্ষার্থী। খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সময় উত্তরপত্রের নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের অমিল ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে শিক্ষা বোর্ড।

১০ বিষয়ে ফেল করেও পাস, পরীক্ষার্থীসহ বোর্ডের ৩ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় দুটি বিষয়ে উত্তরপত্রে শূন্য পেলেও প্রকাশিত ফলাফলে একটিতে ৪৬ এবং অন্যটিতে ৪৫ নম্বর পেয়েছে এক শিক্ষার্থী। খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সময় উত্তরপত্রের নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের অমিল ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে শিক্ষা বোর্ড।

মামলার আসামিরা হলেন শিক্ষার্থী হাসিবুল আলী শোভন এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের তিন কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, রাশেদুল ইসলাম ও নূর হোসেন রায়হান।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, শোভন এসএসসি পরীক্ষায় ১০টি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও প্রকাশিত ফলাফলে নম্বর পরিবর্তন করে তাকে পাস করানো হয়। এ ঘটনায় শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের তিন কর্মচারীকে দায়ী করা হয়েছে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, শিক্ষা বোর্ডের তিন কর্মচারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, হাসিবুল আলী শোভন এ বছর আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সে সব বিষয়ে পাস করেছে।

ফল প্রকাশের পরদিন ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ ছিল। ওই সময় শোভনের পক্ষ থেকেও আবেদন করা হয়।

মামলার বাদী ও শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন জানান, উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের সময় একজন পরীক্ষক খাতার নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের নম্বরের অমিল দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি বোর্ডকে জানান। শিক্ষা বোর্ড অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করলে শিক্ষার্থীর আরও কয়েকটি বিষয়ে একই ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে পাবলিক পরীক্ষা আইন অনুযায়ী কলেজে ভর্তির আগেই ওই শিক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মামলা করার নির্দেশনা আসে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর প্রকাশিত ফলাফলে ১১টি পত্রের সৃজনশীল অংশে নম্বর বাড়ানো হয়েছে। বাংলা প্রথম পত্রের উত্তরপত্রে সে ২৩ নম্বর পেলেও ফলাফলে দেখানো হয়েছে ৩৩। দ্বিতীয় পত্রে ২৪ নম্বরের পরিবর্তে দেখানো হয়েছে ৬২।

ইংরেজি প্রথম পত্রের উত্তরপত্রে ৩৩ নম্বর থাকলেও ফলাফলে দেখানো হয়েছে ৮৩। দ্বিতীয় পত্রে ২০ নম্বরের জায়গায় বসানো হয়েছে ৮২। গণিতের উত্তরপত্রে ৯ নম্বর পেলেও ফলাফলে এসেছে ৬৬। ইসলাম শিক্ষায় ৭ নম্বরের পরিবর্তে দেখানো হয়েছে ৬৪।

এ ছাড়া উচ্চতর গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের উত্তরপত্রে শূন্য পেলেও প্রকাশিত ফলাফলে যথাক্রমে ৪৬ ও ৪৫ নম্বর দেখানো হয়েছে। জীববিজ্ঞানের খাতায় ১ নম্বরের পরিবর্তে ফলাফলে এসেছে ৪৬। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে উত্তরপত্রে ৪ নম্বর থাকলেও ফলাফলে দেখানো হয়েছে ৬৫।

এর আগে ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে ছেলের পরীক্ষার খাতায় নম্বর বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল।

২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নগরীর একটি বেসরকারি কলেজ থেকে অংশ নিয়েছিলেন নারায়ণ চন্দ্রের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ। পরে তার জিপিএ-৫ পাওয়া নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড নক্ষত্র দেবনাথের ফলাফল বাতিল করে। সে সময় তদন্ত কমিটি নারায়ণ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সুপারিশ করেছিল। পরে মামলা হলে অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথকে গ্রেপ্তার করা হয়।