শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সহজে পৌঁছে দিতে তৃণমূল পর্যায় থেকে স্বাস্থ্য অবকাঠামো নতুন করে সাজানোর বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সহজে পৌঁছে দিতে তৃণমূল পর্যায় থেকে স্বাস্থ্য অবকাঠামো নতুন করে সাজানোর বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ‘হেলথ হাব’ এবং প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের বিপরীতে একটি করে ‘হেলথ ওয়েলবিং সেন্টার’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করার সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই বিষদ পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।


তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ের ‘হেলথ হাব’ সমন্বিত সেবাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, যেখানে সাধারণ চিকিৎসা এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সবরকম পরামর্শ ও ওষুধ একই ছাদের নিচে পাওয়া যাবে। এসব কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিধান চালু করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিতভাবে নাগরিকদের রক্তচাপ ও ডায়াবেটিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নারীদের স্তন ও জরায়ু ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্তকরণের কাজে সরাসরি অবদান রাখবেন।

তৃণমূলের পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সেবা ব্যবস্থা সম্প্রসারণে বড় পরিবর্তনের আভাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উপজেলা হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো ও শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫১টিতে উন্নীত করার কাজ চলছে এবং উপজেলা পর্যায়েই কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য ডায়ালাইসিস ইউনিট খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা সদরের হাসপাতালে ১০টি এবং জেলা হেডকোয়ার্টার হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন বসানো হবে।

চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ার সাথে সাথে মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক ঘাটতি দূর করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে অকার্যকর থাকা আইসিইউ ও নবনির্মিত মেডিকেল কলেজগুলোর কার্যক্রম দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনে যেকোনো ধরণের অনিয়ম ও অবহেলাকে কঠোরভাবে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সরকারের এসব বৈপ্লবিক পরিবর্তন বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করা হয়েছে।