সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রুশ ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধ, জেলেনস্কিকে সরানোর আহ্বান ট্রাম্পের

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা করতে আগ্রহী এমন কাউকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মার্কিন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর জবাবেই ট্রাম্প ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।

রুশ ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধ, জেলেনস্কিকে সরানোর আহ্বান ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা করতে আগ্রহী এমন কাউকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মার্কিন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর জবাবেই ট্রাম্প ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর অনেক সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাননি জেলেনস্কি। এ কারণে তাঁকে বদলানোর কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে তাঁর চুক্তি। শুক্রবার এ চুক্তির ঘোষণা দিয়ে রুশ ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথা জানান ট্রাম্প। শনিবার রাশিয়াও জানায়, তারা ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নিয়েছে।

জেলেনস্কি এ চুক্তিকে মস্কোর জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে রাশিয়ার ওপর চাপ কমবে এবং ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে মস্কো। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি চুক্তিটিকে ‘অন্যায্য ও অসৎ’ বলে বর্ণনা করেন এবং একে ট্রাম্পের দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

জেলেনস্কির বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। জেলেনস্কিকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তার এটা অবশ্যই বন্ধ করা উচিত।’

জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধের প্রভাব

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে জ্বালানির উচ্চমূল্য ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে যে পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে, তা দেশটির স্বাভাবিক রপ্তানির তুলনায় কম। ফলে এই চুক্তির কারণে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা সীমিত।

ট্রাম্পের নিজ দলের আইনপ্রণেতা ডন বেকনও চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করে কংগ্রেসের সম্প্রতি অনুমোদিত আরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা উচিত।

এদিকে শনিবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার হামলায় তিন শিশুসহ ২০ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে রয়টার্স। জেলেনস্কি এই হামলার সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের যোগসূত্র টেনে বলেন, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানোর সুযোগ পেলে দেশটি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সংকেত পায়।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম শনিবার জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করবে যুক্তরাজ্য।

রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে মিয়ামিতে যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছিল, তখনই ট্রাম্প ডিজেল চুক্তির ঘোষণা দেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এতে কিয়েভ বিস্মিত হয়েছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার প্রচেষ্টার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কেও নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

রুশ ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধ, জেলেনস্কিকে সরানোর আহ্বান ট্রাম্পের

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা করতে আগ্রহী এমন কাউকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মার্কিন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর জবাবেই ট্রাম্প ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর অনেক সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাননি জেলেনস্কি। এ কারণে তাঁকে বদলানোর কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে তাঁর চুক্তি। শুক্রবার এ চুক্তির ঘোষণা দিয়ে রুশ ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথা জানান ট্রাম্প। শনিবার রাশিয়াও জানায়, তারা ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নিয়েছে।

জেলেনস্কি এ চুক্তিকে মস্কোর জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে রাশিয়ার ওপর চাপ কমবে এবং ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে মস্কো। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি চুক্তিটিকে ‘অন্যায্য ও অসৎ’ বলে বর্ণনা করেন এবং একে ট্রাম্পের দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

জেলেনস্কির বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। জেলেনস্কিকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তার এটা অবশ্যই বন্ধ করা উচিত।’

জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধের প্রভাব

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে জ্বালানির উচ্চমূল্য ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে যে পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে, তা দেশটির স্বাভাবিক রপ্তানির তুলনায় কম। ফলে এই চুক্তির কারণে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা সীমিত।

ট্রাম্পের নিজ দলের আইনপ্রণেতা ডন বেকনও চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করে কংগ্রেসের সম্প্রতি অনুমোদিত আরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা উচিত।

এদিকে শনিবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার হামলায় তিন শিশুসহ ২০ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে রয়টার্স। জেলেনস্কি এই হামলার সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের যোগসূত্র টেনে বলেন, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানোর সুযোগ পেলে দেশটি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সংকেত পায়।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম শনিবার জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করবে যুক্তরাজ্য।

রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে মিয়ামিতে যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছিল, তখনই ট্রাম্প ডিজেল চুক্তির ঘোষণা দেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এতে কিয়েভ বিস্মিত হয়েছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার প্রচেষ্টার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কেও নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

রোববার জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে ইউক্রেনও রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে এ জন্য কার্যকর নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ‘ইউরোপে যুদ্ধের প্রকৃত কারণ রাশিয়া, শুধু রাশিয়াই।’

রোববার জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে ইউক্রেনও রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে এ জন্য কার্যকর নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ‘ইউরোপে যুদ্ধের প্রকৃত কারণ রাশিয়া, শুধু রাশিয়াই।’