শুক্রবার, 30 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সায়মা ওয়াজেদের সূচনা ফাউন্ডেশন ও ধীরেন্দ্র দেবের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে সায়মা ওয়াজেদের নেতৃত্বাধীন সূচনা ফাউন্ডেশন এবং বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সায়মা ওয়াজেদের সূচনা ফাউন্ডেশন ও ধীরেন্দ্র দেবের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে সায়মা ওয়াজেদের নেতৃত্বাধীন সূচনা ফাউন্ডেশন এবং বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত আদেশটি দেন। দুদকের আইনজীবী মীর আহম্মেদ আলী সালাম জানান, কমিশনের দুই কর্মকর্তা বুধবার পৃথকভাবে নথি জব্দের আবেদন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার আদালত আবেদন দুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন।

সূচনা ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ 

সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের আবেদনটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। বুধবার জমা দেওয়া আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত ফাউন্ডেশনটি ৯৯ লাখ ৪ হাজার টাকা কর পরিশোধ না করে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। এ সময় ভুয়া কর জমার নথি তৈরি করা হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, এসব নথির ভিত্তিতে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আয়কর বাবদ ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে পরিচালিত ১৪টি ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থের অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে দুদক একটি মামলা করেছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, এসব হিসাবে মোট ৫৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা জমা হয়েছে এবং সেখান থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ৪৬৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

দুদক বলেছে, মামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথি সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এ জন্য নথির স্থায়ী ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্র জব্দের আবেদন জানানো হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ মার্চ আদালত সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে থাকা ১৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সম্পদের হিসাব যাচাই

অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক খায়রুল হাসান।

আবেদনে বলা হয়, শম্ভুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে দুদক।

মামলাগুলোর তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর আয় ও ব্যয়ের হিসাবের যথার্থতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তাঁর মালিকানায় ঘোষিত সম্পদের বাইরে অন্য কোনো সম্পদ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখতে চায় কমিশন।

এসব বিষয় যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আয়কর নথি জব্দ করে পর্যালোচনার আবেদন জানায় দুদক। আদালত বৃহস্পতিবার সেই আবেদনেও আদেশ দেন।