শুক্রবার, 25 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সরকার জনগণের কাছে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: তারেক রহমান

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাতীয় আয়ের আনুপাতিক হারে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

সরকার জনগণের কাছে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: তারেক রহমান
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপিত একত্রিশ দফা অঙ্গীকার রূপায়ণে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মূল সুর কাউকে বাদ দিয়ে নয় এর সাথে তাঁর সরকারের ঘোষিত এই রূপরেখার অন্তত ৭৩ শতাংশ উদ্যোগের প্রত্যক্ষ এবং অবশিষ্ট ২৭ শতাংশ বিষয়ের পরোক্ষ সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সময় তিনি এই বিষয়গুলো বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্ট করেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, গৃহীত এসব জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে নগর ও তৃণমূল পর্যায়ের মধ্যকার জীবনযাত্রার ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এর পাশাপাশি ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সামগ্রিক ও সুষম অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে। দেশের বর্তমান প্রশাসন শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও ক্রীড়াক্ষেত্রকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, জাতীয় ইতিহাসে এই প্রথম রাষ্ট্রীয় বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ শিক্ষা খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাতীয় আয়ের আনুপাতিক হারে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। চারিত্রিক সততা ও কর্মসংস্থানমুখী আধুনিক শিক্ষানীতি প্রণয়নের স্বার্থে তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রায়োগিক ও কারিগরি দিকগুলোর ওপর জোর দিয়ে নতুন পাঠ্যসূচি প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক সংস্কার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রারম্ভিক শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবই বহনের ব্যাগ, নির্ধারিত পোশাক ও পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজ সম্পূর্ণ বিনা খরচে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই কার্যকর পদক্ষেপগুলোর ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক পাঠদানের মান অনেকাংশে উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ক্রীড়াচর্চাকে স্বতন্ত্র পেশাগত ক্ষেত্র হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যতালিকায় প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিষয়ক শিক্ষা যুক্ত করার কথাও জানান তিনি। এই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় গত জুন মাসে সারা দেশের তৃণমূল শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এক মাসব্যাপী একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন সম্পন্ন করা হয়, যেখানে কুড়ি লাখেরও অধিক প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল।