রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এবং সংবিধান নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে জাতীয় সংসদের অধিবেশন দুই বেলা চালানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশাল এই আইনি কর্মযজ্ঞ দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনে আগামী শুক্রবারও সংসদ সচল রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার পক্ষ। সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
দিনের অধিবেশনের শুরুতেই বিলের অনুলিপি সময়মতো না পাওয়া নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন কার্যপ্রণালী বিধির উদ্ধৃতি দিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী বিলের প্রতিলিপি অন্তত তিন দিন আগে সদস্যদের হাতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ৪৯ পৃষ্ঠার একটি বিশাল দলিল তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ করা হয়েছে। এতে বিশেষ করে নতুন সংসদ সদস্যদের পক্ষে প্রস্তাবিত আইনের ওপর গভীর আলোচনা করা বা তা সঠিকভাবে বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার জানান, সংসদীয় বিধিতে নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে তা শিথিল বা মওকুফ করার বিশেষ ক্ষমতা স্পিকারের রয়েছে। সেই সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেই বিলটি অধিবেশনে উত্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চিফ হুইপ জানান, সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, যা রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যেই এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
চিফ হুইপ আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি বিলের ৯০০টি করে অনুলিপি প্রস্তুত করতে বিজিবি প্রেস বিরতিহীনভাবে ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। প্রচণ্ড সময়ের অভাবের কারণেই সদস্যদের কাছে আগেভাগে অনুলিপি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এই ম্যারাথন কর্মযজ্ঞ সফল করতে মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা এবং বিকেল সাড়ে ৩টায়—দুই সেশনে সংসদ অধিবেশন পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া আগামী বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত ‘বেসরকারি সদস্য দিবস’ বাতিল করে সেটিকে সরকারি কার্যদিবস হিসেবে গণ্য করা হবে।
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং জাতীয় এই সংকট উত্তরণে বিরোধী দলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন চিফ হুইপ। তিনি আহ্বান জানান যে, গঠনমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যেন সবকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করা সম্ভব হয়। এই জরুরি পদক্ষেপের ফলে আগামী কয়েক দিন সংসদ এক ব্যস্ততম সময় পার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।