রাজনীতিতে বিভ্রান্তি ও উসকানি নয়, মানুষের কল্যাণে কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ১৯৭১, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে একটি দলকে উসকানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। একই সঙ্গে তারা প্রিয় মাতৃভূমিকে বিশ্বপরিসরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেখতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মী ও শ্রমিকের হাতে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচারের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে সরকারের চেয়ে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হলে সংশ্লিষ্টদের জনগণের কাছেই ক্ষমা চাইতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা রাজনীতিবিদের দায়িত্ব নয়। বরং জনগণকে ধৈর্য ধারণে উৎসাহিত করা এবং সঠিক পথ দেখানোই একজন রাজনীতিবিদের দায়িত্ব।
দেশে বিশৃঙ্খল রাজনীতির সময় শেষ হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি স্বৈরাচার সরকার করে গেছে। বর্তমান রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির পথ বাদ দিয়ে জনকল্যাণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা সামনে আনার আহ্বান জানান তিনি।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুরের রাজনীতিরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন সেই রাজনীতির সময় নেই এবং জনগণও আর এ ধরনের রাজনীতিকে সমর্থন করে না।
ঢাকা-১৭ আসনের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, সেখানে তাদের প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। পাশের লেকটি পরিষ্কার করতেই ছয় মাস সময় প্রয়োজন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের কাজ সহজ নয়; কিন্তু সমালোচনা করা সহজ।
তাই যারা শুধু সমালোচনায় ব্যস্ত, তাদের মাঠে নেমে মানুষের ও দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সঠিক কথা বলা এবং দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে—এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
বিএনপির নেতাকর্মীদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে টিকে ছিলেন। বর্তমানে যারা বড় গলায় কথা বলছেন ও মিথ্যাচার করছেন, গত ১৭ বছরে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম, হত্যা ও মারধরের অভিযোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের বড় পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদন দেখলেই এসব ঘটনার চিত্র পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এরপর একটি রাজনৈতিক দলের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ওই দলের নেতারা ১৯৭১ সালে ভুল করেছেন, ১৯৮৬ সালে ভুল করেছেন, ১৯৯৬ সালে ভুল করেছেন এবং ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তাদের এসব উসকানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে মানুষের কল্যাণে কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা সংসদে উপস্থাপন এবং জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনস্বার্থে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা থাকলে সরকার সেটি অনুযায়ী কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়াও করা হয়।