ট্যারিফের সর্বনিম্ন ধাপ অর্থাৎ শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই তথ্য জানিয়ে উল্লেখ করেন, সরকারের এই জনবান্ধব সিদ্ধান্তের কারণে দেশের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ সরাসরি আর্থিক চাপ থেকে রেহাই পাবেন।
আজ শনিবার সচিবালয়ে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. জাহেদ ব্যাখ্যা করে বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের গণশুনানি ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হলেও সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহক এই মূল্যবৃদ্ধির আওতার বাইরে থাকবেন। ফলে সিংহভাগ সাধারণ গ্রাহকের ক্ষেত্রে আগের বিদ্যুতের বিলই বহাল থাকছে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীত সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া ব্যাপক দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের নেতিবাচক প্রভাব ও ঋণের বোঝা বর্তমান প্রশাসনকে কাঁধে নিতে হচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক চক্র থেকে দেশকে মুক্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিটি কাজে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী আরও সমালোচনা করে বলেন, পূর্ববর্তী শাসকগোষ্ঠী দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন বাড়ানোর চেয়ে বিদেশ থেকে আমদানির নীতিকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছিল। সেই সময়ে যদি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনমুখী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হতো, তাহলে বর্তমান সময়ে এসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই ধরনের তীব্র সংকটজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।