রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-১৬ আসন বিএনপি আয়োজিত দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক শোভাযাত্রাপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দলীয় পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে আমিনুল হক সতর্ক করে জানান, কোনো ধরনের অপকর্ম বা অন্যায়কে দলে স্থান দেওয়া হবে না। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি সব ধরনের কার্যক্রম জনগণের সম্পৃক্ততা ও মতামত নিয়ে পরিচালনার আহ্বান জানান।
স্থানীয় বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার সমাধান ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে সুপেয় পানির পাম্প বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকাভিত্তিক নানামুখী উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
বৃহত্তর মিরপুরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছে এবং তাঁর নির্দেশনায় পল্লবীসহ পুরো অঞ্চলে দ্রুতই হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হবে। একই সাথে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও তিনি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
বর্তমান সরকারের গত ছয় মাসের সুফল তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত ইশতেহার অনুযায়ী কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা, ক্রীড়া, খাল পুনঃখনন, পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুবিধা প্রতিটি নাগরিকের দ্বারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
বক্তব্যের সূচনায় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করেন। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময়জুড়ে চলমান সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ সমাপ্তির পর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। মিছিলটি মিরপুর-১১ ও ১০ নম্বর গোলচত্বর হয়ে ৬ নম্বর বাজার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। আয়োজনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও পল্লবী থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।