সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্বকালে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত তথ্য-নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া, পরে তা বাতিল ও বদলির নথিও চাওয়া হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে এসব নথি চেয়েছে দুদক। গতকাল বুধবার তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।
দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা মো. জাহিদ কালামের সই করা চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব তথ্য ও নথি পাঠাতে বলা হয়েছে। দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি অনুসন্ধান পর্যায়ে। অনুসন্ধানের জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।’
দুদক আসিফ মাহমুদ ছাড়া যে তিনজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে, তারা হলেন— যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
এর আগে বুধবার দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সাবেক সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমসহ চারজনের বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়ম এবং কোটি কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তবে ওই দিন দুদকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ।
ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, অনুসন্ধান শুরুর আগেই অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলা এবং তা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ফলে তার মানহানি হয়েছে। এ ঘটনায় দুদকের কাছে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশের দাবিও জানান তিনি।
পরে বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ-সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহারে দুদককে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন এনসিপির এই নেতা।