বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট ও ভঙ্গুর ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়ে দেশের বর্তমান অবস্থাকে এক ধ্বংসস্তূপের সাথে তুলনা করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সঠিক সমন্বয় ও দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন পরিশোধ করাও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে পৌরসভার সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ ছাড়া টেকসই অগ্রগতি কোনোভাবেই অর্জিত হতে পারে না। সাধারণ জনগণের ওপর যেন বাড়তি ট্যাক্স বা করের বোঝা চেপে না বসে—সেই লক্ষ্য রেখেই বর্তমান বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে ঘোষিত বাজেটকে বাস্তবে রূপ দিতে দেশের জনগণ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
উক্ত মতবিনিময় সভার পূর্বে সিরাজগঞ্জ শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করার লক্ষ্যে ড্রাম ট্রাকসহ মোট ছয়টি নতুন আধুনিক যান হস্তান্তর করেন মন্ত্রী।
যানবাহন উদ্বোধনের একপর্যায়ে মন্ত্রী স্বয়ং একটি ড্রাম ট্রাকে উঠে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি কিছুটা স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই দৃশ্য দেখে হয়তো চায়ের টেবিলে নানা আলোচনা বা সমালোচনা তৈরি হতে পারে। কিন্তু কোনো লোকদেখানো প্রদর্শনী হিসেবে তিনি গাড়িতে ওঠেননি। তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রায় তিন-চার দশক আগে ভোরবেলা এমন যান দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করার পর রাস্তাঘাট যেভাবে ঝকঝকে হয়ে উঠত, সেই পুরনো আবেগ ও স্মৃতিকাতরতা থেকেই তিনি গাড়িতে উঠেছিলেন।
পৌরসভায় যুক্ত হওয়া নতুন এসব সরকারি সম্পদের সুরক্ষা দেওয়ার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ও সরকারের আসল অভিভাবক হলো সাধারণ জনগণ। তাই এই বাহনগুলোর সঠিক যত্ন নেওয়া সকলের নাগরিক দায়িত্ব।
উক্ত আয়োজনের আগে শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ধানবান্ধি ডোবাপাড়া এলাকায় একটি নতুন আরসিসি ড্রেন ও পাকা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন করেন তিনি।
পৌরসভার এই বহুমাত্রিক কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পৌরসভার প্রশাসক শাহাদাত হুসেইন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।