শুক্রবার, 25 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে সাধারণ পরিষদের মূল মিলনায়তনে সম্পূর্ণ মাতৃভাষা বাংলায় তিনি নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাঁর এই অভিষেক ভাষণ দেশের গণতান্ত্রিক পটভূমি এবং বৈশ্বিক কূটনীতির অঙ্গনে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে, তেমনি জাতিসংঘের সুদীর্ঘ পথচলায় এটি এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বমঞ্চে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ব সংস্থার এই মূল অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে সাধারণ পরিষদের মূল মিলনায়তনে সম্পূর্ণ মাতৃভাষা বাংলায় তিনি নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাঁর এই অভিষেক ভাষণ দেশের গণতান্ত্রিক পটভূমি এবং বৈশ্বিক কূটনীতির অঙ্গনে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে, তেমনি জাতিসংঘের সুদীর্ঘ পথচলায় এটি এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের সামগ্রিক কার্যক্রমে এর পূর্বে পিতা, মাতা এবং পরবর্তী প্রজন্মে সন্তানের রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থেকে সাধারণ পরিষদে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য রাখার কোনো নজির দেখা যায়নি। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অক্ষুণ্ণ রেখে বিশ্ব দরবারে প্রধানমন্ত্রী কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনা, মানবাধিকার সুরক্ষা, সামাজিক সুবিচার এবং জাতীয় আকাঙ্ক্ষার কথা নিজস্ব ভাষায় বলিষ্ঠভাবে প্রকাশ করেন।

নিজের বক্তব্যে তিনি সমসাময়িক বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের মূল অবস্থান ও প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। এতে বৈশ্বিক জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সংহতি বজায় রাখা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বহুমুখী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, মানবিক দিকসমূহ এবং দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়গুলো জোরালোভাবে উঠে আসে।

এই ভাষণের মধ্য দিয়ে সাধারণ পরিষদের সাথে একটি পরিবারের চার দশকেরও অধিক সময়ের নিবিড় সম্পর্কের এক নতুন পর্ব সূচিত হলো। এর পূর্বে পরিবারের প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলেন। সে সময় তিনি বিত্তবান ও অনগ্রসর রাষ্ট্রগুলোর আর্থসামাজিক অসামঞ্জস্য দূরীকরণ, খাদ্য সংকট নিরসন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক যৌথ প্রচেষ্টার অপরিহার্যতার বিষয়গুলো বিশ্ববাসীর সামনে এনেছিলেন। একই সাথে তিনি বিশ্বশান্তি, মানবিক আত্মমর্যাদা এবং দায়িত্বশীল আন্তর্জাতিক সমাজ গঠনের তাগিদ দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুসারে, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি সর্বমোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের মূল মঞ্চে বক্তব্য রাখেন। এর বাইরেও তিনি ১৯৯৫ সালে বিশ্ব সংস্থার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সম্মেলন, ২০০২ সালের শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত ৬০তম অধিবেশন চলাকালে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।