দেশের সবকটি সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রকে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের দৌরাত্ম্য থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পর্যবেক্ষণ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে সিলেট অঞ্চলের সার্বিক চিকিৎসা সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে হাসপাতালের নিকাশি ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশ প্রদান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন, কিছু অসাধু গোষ্ঠী রোগীদের বিভ্রান্ত করে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। এই চক্রের বিরুদ্ধে ডিজিএফআই, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ সমন্বয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনার ফলে আগের তুলনায় তাদের অপ তৎপরতা অনেকটাই কমে এসেছে বলে তিনি জানান।
অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার বিষয়টি তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানার পাশাপাশি সরাসরি সিলগালা করা হচ্ছে।
যেসকল চিকিৎসাকেন্দ্রে অদক্ষ বা ভুয়া সনদধারী ব্যক্তিদের দিয়ে অস্ত্রোপচারসহ অন্যান্য স্পর্শকাতর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর তালিকা তিনি নিজে তদারকি করছেন এবং অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছেন। একই সঙ্গে রোগীদের প্রতি চিকিৎসকদের মনোভাব এবং প্রদত্ত খাবারের গুণগত মান পূর্বের চেয়ে উন্নত হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।