মধ্যরাতের মাত্র সোয়া এক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে দেশের বিভিন্ন জনপদে। শনিবার দিবাগত রাত সোয়া বারোটা থেকে দেড়টার মধ্যে সংঘটিত এসব কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল প্রতিবেশী মিয়ানমার এবং ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্য। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ভোরের আলো ফোটার সময় চার দশমিক আট মাত্রার আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত বারোটা বেজে বারো মিনিটে মিয়ানমার সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় প্রথম আঘাতটি আসে। রিখটার স্কেলে চার দশমিক নয় মাত্রার ওই কম্পনে কেঁপে ওঠে কক্সবাজার ও টেকনাফের সীমান্ত অঞ্চলসহ চট্টগ্রাম মহানগরী। এর ঠিক ষাট সেকেন্ড পরেই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিজোরামের লুংলেই অঞ্চলে রিখটার স্কেলে পাঁচ মাত্রার দ্বিতীয় ভূকম্পনটি আঘাত হানে। এর ফলে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখালীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদে তীব্র কম্পন সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে রাত একটা সাতাশ মিনিটে ত্রিপুরার আগরতলা ভূখণ্ডে তিন দশমিক আট মাত্রার তৃতীয় ধাক্কাটি অনুভূত হয়। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি ত্রিপুরার ডালাই এলাকায় এই কম্পনের কথা জানিয়েছে, যার প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানে মৃদু ঝাঁকুনি তৈরি হয়।
রাতভর এই ভীতিকর পরিস্থিতির পর ভোরের দিকে আরও একটি ভূকম্পন শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভোর চারটায় রাজধানী থেকে চারশত তেতাল্লিশ কিলোমিটার দূরে চার দশমিক আট মাত্রার এই কম্পনটি রেকর্ড করা হয়। তবে এতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে সম্পর্কিত বিস্তারিত বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।