সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বাঁধ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গত ১৬ জুন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়ন কার্যক্রমের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বাঁধ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভারতের পাহাড়ি ঢল ও আগ্রাসী প্লাবনে মুহুরী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ফেনীর জনপদ ভাসিয়ে নেওয়ার স্থায়ী সমাধান হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই বিপর্যয় ও ভোগান্তি থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের রেহাই দিতে বড় পরিসরে টেকসই বাঁধ নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১ অক্টোবর ফেনী সফরে এসে ‘ফেনী জেলাধীন পরশুরামের মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে ১৭ সেপ্টেম্বর সফরের দিনক্ষণ ঠিক করা হলেও পরবর্তীতে তা পিছিয়ে অক্টোবরের শুরুতে পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গত ১৬ জুন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়ন কার্যক্রমের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির আওতায় মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া অববাহিকার প্রায় সাড়ে ৮৩ কিলোমিটার নদী ও জলাধার খনন, ৬৮ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার, নদীর পাড় সংরক্ষণ এবং জলসেচ অবকাঠামোর সার্বিক আধুনিকায়ন করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রত্যাশা, পুরো কাজ সমাপ্ত হলে বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন ও বন্যার ভয়াবহতা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

উল্লেখ্য, বিগত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে নজিরবিহীন ঢল ও বন্যায় ফেনীর একাধিক স্থান প্লাবিত হয়ে যোগাযোগব্যবস্থা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে পরশুরাম এবং ফুলগাজী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ভেঙে চরম বিপর্যয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। সেই সংকটময় পরিস্থিতির পর থেকেই একটি দীর্ঘমেয়াদি ও মজবুত বেড়িবাঁধের জন্য জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিল এলাকাবাসী, যা এই সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।

সরকারপ্রধানের এই আগমনকে ঘিরে প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। পরশুরামের মডেল সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণের স্থান তৈরির কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং যাতায়াতের প্রধান সড়কগুলো সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসন সভাস্থলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধা ও অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপনসহ সকল প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

সফর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ফুলগাজীতে একগুচ্ছ সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে পারিবারিক সহায়তা কার্ড, প্রান্তিক চাষীদের পরিচয়পত্র প্রদান, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের আর্থিক সহায়তা, সৌরবিদ্যুৎ সংযোজন এবং সুবিধাবঞ্চিত মেধাবীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির উদ্বোধনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে এবং সরকারপ্রধানের আগমন ঘিরে সব ধরনের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সমাজকল্যাণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাত ধরে যে রক্ষা বাঁধের সূচনা হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতায় এবার একটি মজবুত ও আধুনিক প্রতিরক্ষাবলয় তৈরি হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলামের মতে, এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ সফল হলে নদীবিধৌত অঞ্চলের বিপুল ফসলি জমি ও লোকালয় রক্ষা পাবে, যা সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।