বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শাসকগোষ্ঠীকে এই ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে তাদের দল নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত দলীয় এক সম্মেলনের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিদ্যমান প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গসংস্থান বা সনদ অনুসরণে উদাসীনতা দেখাচ্ছে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ পুরোপুরি কার্যকর করার অঙ্গীকার নিয়ে জামায়াত ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একযোগে স্বাক্ষর করেছিল। আগামী সেপ্টেম্বরে এই নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম হতে যাচ্ছে। তাই অনতিবিলম্বে সংসদীয় অধিবেশন আহ্বান করে উক্ত সনদ বাস্তবায়নের জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি তাগিদ দেন। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই রাজনৈতিক নেতা বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিজ আওতাধীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবক্ষয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে অন্যান্য খাতের বিষয়ে অনভিপ্রেত মতামত দিচ্ছেন। একই সাথে সংসদের প্রধান বিরোধী শক্তিকে খাটো করে বক্তব্য প্রদান করা থেকে তাকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয় সরকার কাঠামোর প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও জেলা পরিষদসহ তৃণমূলের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মারাত্মক স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে, যা পুরোপুরি সংবিধানপরিপন্থী। কোনো অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা থাকলে এমন প্রশাসক নিয়োগ মানানসই হতে পারত, তবে একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে এই প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রের সামগ্রিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশজুড়ে টেকসই কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিহ্ন মিলছে না; বরং শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘাতই চারদিকে দৃশ্যমান হচ্ছে। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় প্রতিনিধিদের নির্বাচনী এলাকায় অর্থ বরাদ্দ ও উন্নয়ন বরাদ্দে চরম বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিনিধিত্বশীল এলাকায় উন্নয়নকাজ তদারকিতে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের নিয়োজিত করার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন অধ্যাপক পরওয়ার। তিনি বলেন, নির্বাচিত মূল সংসদ সদস্যকে বাইপাস করে ভিন্ন কাউকেও তদারকির ভার দেওয়া অযৌক্তিক এবং এটি সংসদ সদস্যদের পদমর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করার একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল। সমতা নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের সংরক্ষিত নারী সদস্যদেরও সরকারি দলের এলাকাগুলোতে তদারকির ক্ষমতা প্রদান করা উচিত বলে তিনি যুক্তি দেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা জেলা ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শীর্ষপর্যায়ের রাজনৈতিক দায়িত্বশীল ও প্রবীণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।