সোমবার, 5 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

খেলাধুলাকে জীবিকা হিসেবে রূপান্তরে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

জাতির যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা প্রয়োজন। খেলার মাঠের সম্প্রীতি ছড়িয়ে দিতে হবে সামগ্রিক জনপদে এবং সমবেতভাবে মাতৃভূমির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

খেলাধুলাকে জীবিকা হিসেবে রূপান্তরে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী
ফুটবলসহ সামগ্রিক ক্রীড়াক্ষেত্রকে শুধু বিনোদন বা শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নির্ভরযোগ্য পেশা হিসেবে দাঁড় করাতে বর্তমান প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মেধাবী ও সফল ক্রীড়াবিদদের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা প্রদান করাও রাষ্ট্রের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে ক্রীড়াচর্চার প্রসার নবীন প্রজন্মকে সুস্থ, কর্মক্ষম ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা রাখে।

রাজধানীর গ্রিন রোডস্থ সরকারি কর্মচারী কোয়ার্টার প্রাঙ্গণে সরকারি কর্মচারী সমাজকল্যাণ কেন্দ্র আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী ও ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এই বক্তব্য দেন।

মন্ত্রী মন্তব্য করেন, একটি সুঠাম ও মননশীল জাতি গঠনে ক্রীড়া অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। কিশোর ও যুবসমাজ যত বেশি মাঠের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তাদের ইতিবাচক বিকাশ ও দক্ষ মানুষ হওয়ার সম্ভাবনা ততটাই সুদৃঢ় হবে। প্রশাসন চায় তরুণরা নিজেদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটাক। মাঠে নিয়মিত ঘাম ঝরানো ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তাদের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার আবহ তৈরি করে। আর ক্রীড়াজগতে উপযুক্ত অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি করা গেলে এটি মানুষের জীবনধারণের বলিষ্ঠ মাধ্যম হয়ে উঠবে।

ফুটবল প্রসঙ্গে তিনি আলোচনা করে বলেন, এই খেলায় একক দক্ষতার পাশাপাশি দলগত সংহতি, সুপরিকল্পিত কৌশল ও পারস্পরিক বোঝাপড়া সবচেয়ে বড় শক্তি। চূড়ান্ত সাফল্য পেতে হলে বল আদান-প্রদান, সঠিক সময়ে আক্রমণ শানানো এবং প্রতিপক্ষের কৌশল ভাঙার সামর্থ্য প্রয়োজন।

সমাপনী ম্যাচে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ভূয়সী প্রশংসা করে মন্ত্রী জানান, মাঠে প্রতিযোগীদের ক্ষিপ্রতা, পায়ের কাজ ও আক্রমণের তীব্রতা ছিল প্রশংসনীয়। দুটি দলই শিরোপা ঘরে তুলতে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের টুর্নামেন্ট নিয়মিত হওয়া খেলোয়াড়দের মানোন্নয়নে সহায়ক।

ক্রীড়ার মর্মবাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি যোগ করেন, খেলার আসল মাহাত্ম্য শুধুই সাফল্যে আবদ্ধ নয়; বরং জয়কে নম্রভাবে বরণ করা এবং হারকে সহজভাবে নিয়ে নতুন করে প্রস্তুতি গ্রহণের মাঝেই এর মূল দীক্ষা। তাই চ্যাম্পিয়ন দলের পাশাপাশি রানার্সআপ দলকেও সাধুবাদ প্রাপ্য। কারণ মাঠে নামা, সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করা এবং ভুলত্রুটি শুধরে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছাই ভবিষ্যৎ সাফল্যের চাবিকাঠি।

তিনি আরও বলেন, মাঠ থেকে যে সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা পাওয়া যায়, তা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বাস্তবায়ন করা দরকার। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়া, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান জানানো এবং গণমানুষের সেবায় নিবেদিত থাকার সংস্কৃতি জোরদার করা আবশ্যক। সরকার এমন এক সামষ্টিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার বাতাবরণ থাকবে।

সরকারি কর্মচারী সমাজকল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রমের প্রশংসা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের চাপের মাঝে সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার বন্দোবস্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে এবং পরিবারের সদস্যদেরও মাঠমুখী হতে উৎসাহিত করে। তাছাড়া এসব আসর স্থানীয় স্তরে এক মিলনমেলায় রূপ নেয়, যা সামাজিক ঐক্যকে সুসংহত করে। আয়োজকদের এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও সচল রাখার তাগিদ দেন তিনি।

সমাবেশে উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতির যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা প্রয়োজন। খেলার মাঠের সম্প্রীতি ছড়িয়ে দিতে হবে সামগ্রিক জনপদে এবং সমবেতভাবে মাতৃভূমির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ষোলোটি দলের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই টুর্নামেন্টে আঠারোটির বেশি ম্যাচ মাঠে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত চারটি দল সেমিফাইনালের গণ্ডি পেরিয়ে লড়াইয়ে নামে এবং শনিবার শেষ ম্যাচের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর এই আসরের পর্দা নামে।