আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশিত গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স বা বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে মোট ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম স্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনের উপাত্ত অনুসারে, বৈশ্বিক এই সূচকে বাংলাদেশের প্রাপ্ত মান ১৯.২ , যা বিগত দুই হাজার আঠারো সালের মূল্যায়নে ছিল ২০তম। প্রাপ্ত মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ বর্তমানে মধ্যম পর্যায়ের ক্ষুধা আক্রান্ত দেশের তালিকায় অবস্থান করছে।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সামগ্রিক গড় মান দাঁড়িয়েছে ২৪। নিকটবর্তী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ২৪.১ মান নিয়ে ভারত রয়েছে ১০০তম স্থানে এবং ২৫.৫ মান নিয়ে পাকিস্তান অবস্থান করছে ১০৬ তম স্থানে। অপরদিকে ১৪.৫ মান অর্জন করে প্রতিবেশীদের তুলনায় এগিয়ে থেকে ৭২ স্থান দখল করেছে নেপাল।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে শিশুদের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং খর্বাকৃতির হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে। দুই হাজার সালে যেখানে এই হার ছিল চুয়ান্ন দশমিক নয় শতাংশ, সেখানে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে তা নেমে এসেছে চব্বিশ শতাংশে, যা তিরিশ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি অগ্রগতি নির্দেশ করে।
তবে খর্বাকৃতির উন্নতি হলেও শিশুদের মারাত্মক পুষ্টিহীনতার চিত্রে বড় ধরনের অবনতি পরিলক্ষিত হয়েছে। দুই হাজার আঠারো সালের মূল্যায়নে যেখানে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার ছিল আট দশমিক চার শতাংশ, তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে বারো দশমিক নয় শতাংশে। দুই হাজার সালের পর থেকে এটিই দেশে তীব্র পুষ্টিহীনতার সর্বোচ্চ নজির।
সাধারণত বয়সের অনুপাতে উচ্চতা ও ওজনের অপ্রতুলতা শিশুদের শরীরে তীব্র পুষ্টি ঘাটতির স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে গণ্য হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, এমন অপুষ্টিজনিত শারীরিক দুর্বলতা কমবয়সী শিশুদের ঘনঘন রোগাক্রান্ত হওয়া এবং অকালমৃত্যুর আশঙ্কাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।