বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জেরে আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল

সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জেরে আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল

জাতীয় আইনসভায় দলবিরোধী বক্তব্য উপস্থাপনের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এলাকার স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে আশুগঞ্জ উপজেলায় অবাঞ্ছিত বলে ঘোষণা করেছে স্থানীয় বিএনপি। এর প্রতিবাদে গতকাল শনিবার অপরাহ্ণে উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় তার প্রবেশে এই নিষেধাজ্ঞা দেন।


উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায় থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভের শুরুতে স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে ঝাড়ু হাতে বের হওয়া প্রতিবাদী মিছিলটি আশুগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের চত্বরে এসে সমাপ্ত হয়।

আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহজাহান সিরাজের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সদস্য মো. জাকির হোসেন, উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন জয়সহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশের সভাপতি হাজী মো. শাহজাহান সিরাজ তার বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পারিবারিক পটভূমি রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতা ও বিশ্বাসঘাতকতায় চিহ্নিত। তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের ছয় মাস পূর্ণ হতে না হতেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সংসদে অশালীন ভাষায় কথা বলে তিনি মূলত আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় স্বার্থ রক্ষা করছেন। আশুগঞ্জের সচেতন জনতা তার এই দৃষ্টিভঙ্গি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং স্থানীয় ভূখণ্ডে তার রাজনৈতিক উপস্থিতি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের কার্যক্রমে অংশ নিয়ে দলটির অতীতের শাসনব্যবস্থা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন সরাইল ও আশুগঞ্জ অঞ্চলের এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। সেখানে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য প্রতিটি সরকারের সাথেই জড়িত থাকে। দলটির শাসনকালে গ্যাস, বিদ্যুৎ কিংবা কৃষিজ সারের সংকট দেখা দেবে না—এমনটি ভাবা বাস্তবসম্মত নয়। একই সাথে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকা কিংবা ঋণখেলাপির হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সাথে দলটির রাষ্ট্র পরিচালনার অতীত সম্পৃক্ত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। আইনসভার ফ্লোরে দেওয়া সেই সমালোচনামূলক বক্তব্যের জের ধরেই স্থানীয় পর্যায়ে এই তীব্র দলীয় অসন্তোষ ও ঝাড়ু মিছিলের ঘটনা ঘটল।